সোহেল মিয়া দোয়ারা বাজার প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রি, ভাড়া দেওয়া এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের অনুপস্থিতির অভিযোগ উঠেছে। অনেক বরাদ্দপ্রাপ্ত পরিবার ঘরে বসবাস না করায় অধিকাংশ ঘরে তালা ঝুলছে। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত পড়ে থাকা এসব ঘরের কয়েকটি মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে বাস্তবায়িত আশ্রয়ণ প্রকল্পে সারাদেশে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। তবে দোয়ারাবাজার উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে দেখা গেছে, বাস্তব চিত্র অনেক ক্ষেত্রেই উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রকৃত উপকারভোগীর পরিবর্তে স্থানীয় প্রভাবশালী, মধ্যস্বত্বভোগী কিংবা অননুমোদিত ব্যক্তিরা বসবাস করছেন। কোথাও সরকারি অনুমোদন ছাড়াই স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে মোটা অঙ্কের টাকায় ঘর হাতবদল হয়েছে। বর্তমানে বসবাসরত কয়েকজন সরাসরি অর্থের বিনিময়ে ঘর কেনার কথাও স্বীকার করেছেন।
উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের আজমপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে ২০২২ সালে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য ১৩২টি ঘর নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ঘরের কয়েকটি বিক্রি এবং কিছু ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক ঘর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কোথাও প্রকৃত ভূমিহীন নন—এমন ব্যক্তিরা ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন। আবার জীবিকার প্রয়োজনে অন্যত্র চলে যাওয়ায় অনেক ঘর জঙ্গলাকীর্ণ হয়ে পড়েছে। কেউ বসবাস না করায় ঘরের দরজা-জানালা ও অন্যান্য সামগ্রী খুলে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের বাঁশতলা কলোনি আশ্রয়ণ প্রকল্পে। সেখানে ২৪টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হলেও স্থানীয় সূত্রের দাবি, অন্তত দুটি ঘর বিক্রি করা হয়েছে এবং কয়েকটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শনে দেখা যায়, অধিকাংশ ঘরেই তালা ঝুলছে। তালায় জমে থাকা মরিচা ও চারপাশের মাকড়সার জাল থেকে ধারণা করা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এসব ঘরে কেউ বসবাস করছেন না।
অন্যদিকে যেসব ঘরে বর্তমানে মানুষ বসবাস করছেন, তাদের অনেকেরই সরকারি বরাদ্দ নেই। কেউ স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায়, কেউ আত্মীয়ের নামে বরাদ্দ পাওয়া ঘরে, আবার কেউ অর্থের বিনিময়ে এসব ঘরে বসবাস করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় আজমপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে আশ্রয় নেওয়া নুরজাহান বেগম জানান, তারা আমিনা বেগম নামে এক নারীর বরাদ্দ পাওয়া ঘরে বসবাস শুরু করেন। আমিনা বেগম অন্যত্র নিজ বাড়িতে থাকায় ঘরটি দীর্ঘদিন খালি ছিল। তবে পরবর্তীতে তিনি সেখানে বসবাস না করলেও ঘরের মালিকানা দাবি করে দরজা খুলে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন নুরজাহান।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ বলেন, “যারা নথির বাইরে বা অবৈধভাবে আশ্রয়ণ প্রকল্পে অবস্থান করছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘর বিক্রির অভিযোগ তদন্তে সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ঘরের বরাদ্দ বাতিল করা হবে।
Leave a Reply