বিশেষ প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কুবাজপুর আহমদাবাদ গ্রামের মৃত শাহ নুর মিয়া চৌধুরী পুত্র সাহাব চৌধুরী ও তাহার কেয়ারটেকার আফাজ চৌধুরী বাদী হয়ে গত ২৩/৭/২৬ ইং তারিখ আমল গ্রহণকারি জুডিশিয়াল মেজিস্টিস জগন্নাথপুর আদালতে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং সি,আর ১৯৪/২৬ইং আসামীরা হলেন মোঃ হিফজুর রহমান তালুকদার জিয়া, আলাল মিয়া, সাফর মিয়া ও এনামুল হক রেজাউল করিম। মহামান্য আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখা সুনামগঞ্জ (ডিবির) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে নির্দেশ প্রদান করেন। তৎসময় জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি ছিলেন মোঃ হযরত আলী। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিগণ মালিক পক্ষ গং থেকে কোন ডিড বা চুক্তিপত্র না নিয়ে তাহারা জাল ডিড তৈরি করে জোরপূর্বক ভাবে বাগান বাড়ির ফিশারীতে মাছ চাষ এবং ফিশারীতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির অনেকগুলো গাছ কেটে নিয়ে যান। যার বাজার মূল্য ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা এবং মালিক পক্ষ বিভিন্ন প্রজাতের ২০ হাজার পোনামাছ ফিসারীতে চাষ করে ছিলেন যাহার মূল্য আনুমানিক ৫ লক্ষ টাকা হবে। মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন কাহিনী সাজিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন সাহাব চৌধুরী। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ হযরত আলী কোনো রকম তদন্ত ছাড়াই অদৃশ্য শক্তির জুড়ে মিথ্যা ঘটনা কে সত্য বলে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। মৃত শাহ নুর মিয়া চৌধুরীর ৫ ছেলে ৩ মেয়ে সহ মোট ৮ জন উত্তরাধিকারী ভূমির মালিক। আসামিগণ ৪ ভাই ২ বোনের কাছ থেকে ৩ বছরের জন্য ট্রাম্পের মাধ্যমে চুক্তিপত্র করে বাগানবাড়ি ফিশারী ও পাটনিবাড়ি ডহর লিজ নেওয়া হয়। মিথ্যা প্রতিবেদন আদালতে প্রদানের কারণে মালিক পক্ষ এবং লিজকৃত চারজন (যাহারা মামলার আসামি) বাদী হয়ে সিলেট ডিআইজি এবং সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার বরাবরে জেলা গোয়েন্দা শাখা সুনামগঞ্জ অফিসার ইনচার্জ মোঃ হযরত আলী বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। আসামিও অভিযোগকারী আলাল মিয়া এ প্রতিবেদক কে জানান আমি বাদী হয়ে গত ১/৭/২৬ ইং তারিখে আমাদের বেতন কৃত টাকা উদ্ধারের জন্য আমল গ্রহণকারি জুডিশিয়াল মেজিস্টিস জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ আদালতে সাহাব চৌধুরীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করি, মামলা নং সি,আর ১৬৭/২৬ইং আমার মামলাটি মহামান্য আদালত জেলা গোয়েন্দা শাখা সুনামগঞ্জ কে তদন্তের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। ডিবির সাবেক অফিসার ইনচার্জ মোঃ হযরত আলী আমার অভিযোগের আলোকে সরজমিন তদন্ত করেন, আমার মানিত সকল সাক্ষী এসে উনাট নিকট জবানবন্দী প্রদান করে। তিনি ইউসুফ মিয়ার মাধ্যমে ৩ হাজার টাকা আমার কাজ থেকে নেন। এবং রিপোর্টের জন্য আমার কাছে টাকা চাইলে আমি ওনার আশানুরূপ টাকা দিতে রাজি না হওয়ায়, আমার সত্য মামলার মিথ্যা প্রতিবেদন আদালতে প্রদান করেন। সবচাইতে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে সাহাব চৌধুরীর মামলার ২২ দিন আগে আমার মামলা আদালত জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ প্রদান করেন। ২২ দিন পর সাহাব এর মামলা ডিবিতে আসে। আগের মামলাকে পিছনে ফেলে পিছনের মামলার প্রতিবেদন একমাত্র টাকার জুড়ে আদালতে দাখিল করা হয়। অভিযোগ কারি সাফর মিয়া ও এনামুল হক বলেন, ঘটনার দিন ১৮/৬/২৬ইং তারিখে আমরা ৪ জন জগন্নাথপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে মৎস্য চাষীদের দক্ষতা উন্নয়ন বিশয়ক প্রশিক্ষণে উপস্থিত ছিলাম। যে মামলা ১০০% মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন, সেই মামলা কিভাবে তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ হযরত আলী সত্য বানিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে সুস্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে টাকার কোন বিকল্প নাই। আসামি এবং অভিযোগকারী মোঃ হিফজুর রহমান তালুকদার জিয়া এ প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের উপর সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ হযরত আলী সরজমিন তদন্ত না করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আমাদের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। আমরা সুনামগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখায় গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তার নিকট আমাদের সম্পূর্ণ ডকুমেন্ট উনার কাছে দিয়ে এসেছি কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমাদের দেওয়া প্রমাণ গুলোকে কোন গুরুত্ব দেননি, টাকার কাছে নীতি আদর্শ বিসর্জন দিয়ে মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন একটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। মজার বিষয় হচ্ছে টাকার কাছে অন্ধ হয়ে একজন সাক্ষীর নাম মোঃ নিপেন্দ্র দাস লিখা হয়। এতে প্রমাণ হয় সত্য কোনদিন চাপা থাকে না। আমরা গত
(২ নভেম্বর) মহামান্য আদালত সুনামগঞ্জে হাজির হয়ে প্রমাণগুলো উপস্থাপন করার পর আদালত আমাদের জামিন মঞ্জুর করেন। আমি এ সমস্ত ঘুষখোর দুর্নীতিবাজ অফিসারের বিরুদ্ধে বিষয়টি পর্যালোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রার্থনা করছি, যাতে আমাদের মত আর কোনো নিরহ সাধারণ মানুষ অদৃশ্য শক্তির কাছে
মৃত শাহ নুর মিয়া চৌধুরীর ৪ ছেলে ও ২ মেয়ের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সকল ভাই বোনদের পক্ষ থেকে সবার বড় ভাই শাহ ছুবা চৌধুরী প্রতিবেদককে জানান। আমরা ছয়জন একত্রিত হয়ে, হিফজুর রহমান তালুকদার জিয়া গং দের নিকট বাগান বাড়ির ফিশারী ও পাটনি বাড়ি ডহর ৩ বছরের জন্য চুক্তিপত্রের মাধ্যমে লিজ প্রদান করি, আমার ভাই সাহাব চৌধুরী তা মানতে নারাজ, তাই সে দেশের কিছু দোষ কৃতি মানুষের কু-পরামর্শে হিফজুর রহমান তালুকদার জিয়া সহ ৪ জনের উপর মিথ্যা মামলা দায়ের করে। কিন্তু তদন্তকারী অফিসারও টাকার লোভে পড়ে মিথ্যা মামলার সত্য রিপোর্ট কিভাবে দিলেন। এটা কি বাংলাদেশ আইনে আছে, আমি বাংলাদেশ সরকারের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।
Leave a Reply