মোঃ মুকিম উদ্দিন স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় বিদ্যুৎ এর মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে গরমে অতিষ্ঠ জনসাধারণ। এ উপজেলার প্রতিটি গ্রামে আধা ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকলেও দু’এক ঘন্টা বিদ্যুৎ মিলছেনা। এমনকি রাতের অবস্থা দিনের চেয়েও বেশী সুচনীয় হয়ে পড়ে। উপজেলার মফস্বল এলাকায় প্রতিদিন চলছে ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাট। যার ফলে বিদ্যুতের যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে উপজেলাবাসী। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার একাধিক লোকজন জানান, বিগত কয়েকমাস যাবত বিদ্যুৎতের লোডশেডিং শুরু হয়েছে। এই কয়েক মাসে সকাল থেকে সারা রাত পর্যন্ত ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৭-৮ ঘন্টা বিদ্যুৎ মিলছে। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে লোডশেডিং এর তীব্রতা বেড়েছে।
উপজেলার শ্রীধরপাশা গ্রামের সাইফুদ্দিন বলেন, এক ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকলেও, দুই ঘন্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। একদিকে বিদ্যুতের ভেলকিবাজি অন্যদিকে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি আমরা। আমরাতো নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আসছি তাহলে বিদ্যুৎ নিয়ে এ ভেলকিবাজি খেলা কেন?
উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের জগদীশপুর গ্রামের কমিরুন নামের এক গৃহিনী বলেন, বিদ্যুতের মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে সীমাহীন দুর্ভোগে ভুগতে হচ্ছে আমাদের। ঘরের ফ্রিজে থাকা মাছ মাংস ও অন্যান্য জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে। পানির মটর চলছে না। বিদ্যুৎ বিভ্রাট আর গরমে ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ায় বাধার সৃষ্টি হচ্ছে এবং প্রচন্ড গরমে বাচ্ছারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
মোহাম্মদ গঞ্জ বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা বানিজ্য ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুতের দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে ফ্রিজে রাখা অনেক তরল জাতীয় খাবার আইসক্রিমসহ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায় অনেক ঘাটতি পড়েছে।
এদিকে পল্লী বিদ্যুতের লুকোচুরি খেলার কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে।বেলাল নামের এক ব্যাক্তি তাঁর ফেসবুক আইডিতে লিখেন, এই বিদ্যুৎ থাকার চেয়ে না থাকাই ভাল। আগে কখনও জগন্নাথপুর বিদ্যুতের এমন ভেলকিবাজি দেখা যায়নি। যখন দেশের বৃহৎ পায়রার মতো বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র কয়লার অভাবে বন্ধ ছিল। বর্তমানে দেশের বাইরে থেকে কয়লা আসছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রও চালু আছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ায় সারাদেশে লোডশেডিং কমেছে। কিন্তু সারা দেশের লোডশেডিং জগন্নাথপুর উপজেলায় কেন তার কারন জানতে চাই।
এবিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎতের জগন্নাথপুর সাব জোনাল অফিসের এজিএম (ওএন্ডএম) ঋষিকেশ বিশ্বাস জানান, চাহিদা অনুয়ায়ি বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না যেকারণে লোডশেডিং বেড়েছে। জগন্নাথপুর উপজেলায় আমাদের চাহিদা রয়েছে ৭ মেগাওয়াট। বর্তমানে আমরা পাচ্ছি ২মেগাওয়াট থেকে ৩ মেগাওয়াট। তিনি জানালেন, আামদের বিদ্যুৎতের চাহিদা ৭ মেগাওয়াট আমরা পাই ৩ ভাগের ১ ভাগ বা ৪ ভাগের ১ ভাগ যেখানে ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের দরকার বিদ্যুৎ লাইনে ও সরবরাহে ত্রুটি থাকায় লোডশেডিং হচ্ছে।
সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে এ উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ এর ২৮ হাজার গ্রাহক রয়েছে বলে তিনি জানান।
Leave a Reply