মোঃ মুকিম উদ্দিন স্টাফ রিপোর্টার::
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারনে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়ার হাওরের ফসল তলিয়ে গেছে। সোমবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে ফসলের মাঠ জলমগ্ন হলেও গতকাল সোমবার রাতের টানা বৃষ্টিতে ফসল তলিয়ে গেছে। আজ মঙ্গলবার সকালে ঘুম থেকে উঠে কৃষকরা পানির নীচে কষ্টার্জিত ফসল দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
নলুয়ার হাওরের ভুরাখালী গ্রামের কৃষক সুলতান মিয়া বলেন, হাওরে পাকা ফসল নিয়া অনেক দুশ্চিন্তায় আছি। নাইয়া (শ্রমিক) সংকটের লাগি সময় মতো ধান কাটাইতে পারছিনা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই বছর ২০ কিয়ার জমিন করছি, ৮ কিয়ার কাটাইছি ১২ কিয়ার জমিনের ধান কাটাইতাম পারছি না।
দাসনোওয়াগাঁও গ্রামের কৃষক সারদা চরন দাস জানান, তিনি ১৬ কেদার জমি আবাদ করেছিলেন মাত্র এক কেদার জমির ফসল তুলতে পেরেছেন। গত দুই দিন ও রাতে বৃষ্টিতে সব জমি তলিয়ে গেছে। কৃষি শ্রমিক সংকট থাকায় তিনি অনেক চেষ্টা করেও ফসল উত্তোলন করতে পারেননি। তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, আমার সব শেষ হয়ে গেল একমাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল আমার পরিবার। দারদেনা করে জমি আবাদ করেছিলাম। এখন সারাবছর কীভাবে চলব।একই হাওরের কৃষক আলাল মিয়া বলেন, হাওরে অনেক পাকা ধান পড়ে আছে টিকমতো কষ্টার্জিত ধান কাটানো যাচ্ছে না। এর মধ্যে দিনের (আবহাওয়ার) অবস্থা ভালোনা। কখন কি যেন হয়। ইতিমধ্যে হাওরের ধান তলিয়ে যাচ্ছে। ১০ কেদার জমির মধ্যে ৪ কেদার কাটছি। শ্রমিক সংকটের কারনে এবং হারভেস্টার মেশিন জলাবদ্ধতার জন্য জমিতে নামানো সম্ভব না হওয়াতে দুর্ভোগে রয়েছি। উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, জগন্নাথপুরে নলুয়ার হাওর, মইয়া ও পিংলার হাওরসহ ছোট বড় ১৫ টি হাওরে এবছর ২০ হাজার ৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কাওসার আহমদ বলেন, আমরা নিয়মিত হাওর পর্যবেক্ষন করছি। ইতিমধ্যে ৫০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে গতকালের ঝড় বৃষ্টির মধ্যে কিছু কৃষক হাওরে ধান কাটছেন। আশা করি বড় ধরনের কোন প্রকার প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ধান কাটা সম্পন্ন হয়ে যাবে। জলাবদ্ধতা ও শ্রমিক সংকটে অনেক কৃষক ধান তুলতে কষ্টে আছেন।
Leave a Reply