সোহেল মিয়া, দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে বিধবা ভাতা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মহিলা ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য বকুল আক্তার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের ৪.৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য। তার স্বামী
বাংলাবাজার ইউনিয়নের কলোনী গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে মো.আজগর আলী।
নিজে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হওয়াতে ও সমাজসেবা অফিসের ইউনিয়ন সমাজকর্মীদের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ভাতা উত্তোলন করে আসছেন বলে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছেন।
অন্যদিকে,বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের বিধবা ভাতা উপকারভোগীদের তালিকা সূত্রে ও পাওয়া যায় এই তথ্য।
অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে বকুল আক্তার বলেন,আমার এক মেয়ে প্রতিবন্ধী। আমার ভাতার টাকাটা সেই খায়। ডিসি স্যার নিজে বলে দিয়েছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শফিক মিয়া বলেন, ইউপি সদস্য বকুল আক্তারের স্বামী জীবিত। ঘুরে আর স্ত্রী’র রোজগারে খায়।
কীভাবে সম্ভব জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে বিধবা ভাতা নেওয়া।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ বকুল আক্তার নিজে ইউপি সদস্য হওয়াতে স্থানীয় ইউনিয়ন সমাজকর্মীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে এসব ভাতার বই তৈরি করেন। এ ছাড়া আগে তাঁদের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে এসব অবৈধভাবে ভাতার কার্ড তৈরি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।
ইউপি সদস্য বকুল আক্তারের বিধবা ভাতা ভোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আবুল হোসাইন বলেন,বকুল আক্তার যখন নির্বাচিত হয় তখন তার স্বামী ছিলো না। তাই ভাতার সুযোগ পেয়েছেন। শুনেছি এখন স্বামী আছে,হয়তো পরবর্তীতে বিবাহ করেছে। তবে আমরা কোন প্রমান পায়নি। প্রমান পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা সমাজসেবা অফিসার (অতি:দা) শফিউর রহমান বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ হতে যে তথ্য দেওয়া হয়,আমরা তার ভিত্তিতে কাজ করি। তবে স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় বিধবা ভাতা নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। আমরা ইউপি সদস্য বকুল আক্তারের বিষয়টি যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুপ রতন সিংহ বলেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিধবা ভাতা নেওয়া গুরুতর অপরাধ। যাঁরা অবৈধভাবে ভাতা নিচ্ছেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply