ছাতক প্রতিনিধি::
দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে চরম অবহেলা ও অযত্নে পড়ে রয়েছে ছাতক সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখকদের বসার স্থান। সরকারের রাজস্ব আহরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী দলিল লেখকরা বছরের পর বছর ধরে অস্বাস্থ্যকর ও মানবেতর পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে দলিল লেখক, সেবাগ্রহীতা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে।
গত সোমবার সকালে টানা ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস প্রাঙ্গণে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, অফিস এলাকায় কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি বের হতে না পেরে দলিল লেখকদের বসার স্থানে প্রায় দেড় ফুট পর্যন্ত জমে যায়। এতে অফিসের ভেতরে ও আশপাশে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
দলিল লেখক নাজমুল ইসলাম জানান জমে থাকা পানির কারণে জমি ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত হাজারো গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, দলিল, খতিয়ান, পর্চা ও অন্যান্য নথি ভিজে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। অনেকের টেবিলের নিচে রাখা প্রয়োজনীয় ফাইল ও কাগজপত্র ইতোমধ্যে পানিতে ভিজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে একদিকে যেমন আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও ব্যক্তিগত নথি হারানোর ঝুঁকিও দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জমে থাকা কালো, দুর্গন্ধযুক্ত ও নোংরা পানিতে পরিবেশ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ওই পানির মধ্যে বসে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন দলিল লেখকরা। ৫৫জন দলিল লেখকরা একবাক্য অভিযোগ করেছেন, নোংরা পানিতে কিছুক্ষণ অবস্থান করলেই পায়ে চুলকানি, ঘা এবং পচনজনিত সমস্যার উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। জনস্বাস্থ্য ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
দলিল লেখক নাজমুল ইসলাম বলেন, “আমরা সরকারের বিপুল রাজস্ব আদায়ে সরাসরি ভূমিকা রাখছি। অথচ আমাদের বসার জন্য একটি স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশও নিশ্চিত করা হয়নি। শুধু দলিল লেখকরাই নন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা জমির ক্রেতা-বিক্রেতা ও সাধারণ মানুষও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বর্ষা এলেই আমাদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।একাধিক দলিল লেখক জানান সাধারন সম্পাদক রঞ্জন কুমার দাশ ও সভাপতি গিয়াস উদ্দিন তালুকদারসহ অর্ধশতাধিক দলিল লেখক এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন সমস্যাটি নতুন নয়। প্রায় ১০ বছর ধরে তারা একই দুর্ভোগের শিকার। এ সময়ে সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক পৌর মেয়র, সাবেক পৌর প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে একাধিকবার লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবসম্মত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় সমস্যার সমাধান হয়নি।
এব্যাপারে, ছাতক সাব-রেজিস্ট্রি অফিসার সাইফুল আলম বলেন একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে এমন নাজুক ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বছরের পর বছর ধরে চলমান এই অব্যবস্থাপনা শুধু দায়িত্বহীনতারই প্রমাণ নয়, বরং সেবাগ্রহীতাদের প্রতি চরম অবহেলারও প্রতিফলন। দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং দলিল লেখকদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং গুরুত্বপূর্ণ সেবাদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
Leave a Reply