সৈয়দ ছায়েদ আহমদ মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি::
দীর্ঘ কর্মজীবনের অবসান উপলক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আবেগঘন মতবিনিময় ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন জনতা ব্যাংক পিএলসি শ্রীমঙ্গল শাখার ব্যবস্থাপক মো. সালাহ্ উদ্দিন। দীর্ঘ ব্যাংকিং জীবনে সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গলের গ্র্যান্ড তাজ রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সৈয়দ আবু জাফর সালাউদ্দিন।
ব্যাংকার অ্যাসোসিয়েশন শ্রীমঙ্গলের সভাপতি ও সাপ্তাহিক ধলাই পত্রিকার উপদেষ্টা সালাহ্ উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘ কর্মজীবনের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলেও মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক কখনো শেষ হয় না। চাকরি ও পদ-পদবি সাময়িক পরিচয় দিলেও মানুষের ভালোবাসা ও অর্জিত সম্মানই একজন মানুষকে স্মরণীয় করে রাখে।
তিনি বলেন, কর্মজীবনে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের আস্থা অর্জন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তোলাকেই তিনি প্রকৃত সাফল্য মনে করেন। গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের আন্তরিক সম্পর্ক জীবনের অন্যতম মূল্যবান অর্জন।
নিজের কোনো কথা, আচরণ কিংবা সিদ্ধান্তে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা প্রার্থনা করে তিনি সবার সহযোগিতা ও ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের সত্য, ন্যায় ও জনকল্যাণে লেখনী, ক্যামেরা ও কণ্ঠকে কাজে লাগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে তাঁর কর্মজীবন, ব্যক্তিগত গুণাবলি ও সামাজিক অবদান নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন ব্যাংকার অ্যাসোসিয়েশন শ্রীমঙ্গলের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, একাত্তর টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আহমেদ ফারুক মিল্লাদ, সিনিয়র সাংবাদিক কাওছার ইকবাল ও সাংবাদিক কলামিস্ট সৈয়দ আমিরুজ্জামান, দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি সৈয়দ ছায়েদ আহমদ, কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম ও শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সদস্যসচিব রুবেল আহমদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক দেশ রূপান্তরের ইসমাইল মাহমুদ, নয়া দিগন্তের এম এ রকিব, মামুন আহমেদ, এহসানুল হক, আতাউর রহমান কাজল, খোলাচিঠির নান্টু রায়, আমার দেশের কাজী গোলাম কিবরিয়া জুয়েল, মুসলিম চৌধুরী, মিজানুর রহমান আলম, সময়ের আলোর শামসুল ইসলাম শামীম, মানবজমিনের জামাল মিয়া, ফটোসাংবাদিক সুলতান আহমদ, তানভীর আহমেদ কাউছার, চায়ের জনপদের মোহাম্মদ আল আমিন, মো. এমরান হোসেন, পিন্টু দেব নাথ ও চায়ের দেশ পত্রিকার সনেট দেব চৌধুরীসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।
ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও অবদান
১৯৬৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌরসভার নছরতপুরে জন্মগ্রহণ করেন মো. সালাহ্ উদ্দিন। বাংলা বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী সালাহ্ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকিং পেশায় সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
জনতা ব্যাংক পিএলসির শ্রীমঙ্গল শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে তিনি গোরারাই বাজার, একাটুনা, ভানুগাছ ও কুলাউড়া শাখার ব্যবস্থাপক ছিলেন। তিনি প্রিন্সিপাল অফিসার (ষষ্ঠ গ্রেড) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পেশাগত দায়িত্বের বাইরেও শিক্ষা, সমাজসেবা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াঙ্গনে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। কমলগঞ্জের আম্বিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও ভূমিদাতা এবং আলফাজ উদ্দিন হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তিনি। হাজী মুজিব বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও হাজী শামীম বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবেও অবদান রেখেছেন।
এ ছাড়া আব্দুল গফুর চৌধুরী মহিলা কলেজ, কমলগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরি, মৌলভীবাজার জেলা সমিতি, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের আজীবন সদস্য তিনি। ব্যাংক অফিসার ফোরাম, কমলগঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, চলন্তিকা বহুমুখী সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান এবং কমলগঞ্জ যুব সংঘের সাবেক সভাপতি ও সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। জনতা ব্যাংক অফিসার কল্যাণ সমিতি, মৌলভীবাজারের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
সাহিত্যচর্চার অংশ হিসেবে তাঁর প্রকাশনায় রয়েছে ‘ফকির ইয়াসমিন শাহ ও তাঁর সাধনতত্ত্ব’ গ্রন্থ। বিভিন্ন সময়ে ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিদায়বেলায় সালাহ্ উদ্দিনের বক্তব্যে উঠে আসে সম্পর্ক, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার কথা। তাঁর প্রত্যাশা, কর্মজীবনের পরিচয়ের বাইরে সহকর্মী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে গড়ে ওঠা আন্তরিকতা ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে।
Leave a Reply