দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে বালু উত্তোলনে বাঁধা দেওয়াতে জমির দখল নিতে জমির ফসল নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, নিজের জমি বালু খেকুদের কাছে বিক্রি না করায় ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকিতে জোরপূর্বক এসব জমির দখল নিতে চাইছেন স্থানীয় একটি পক্ষ। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ভোরে উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের চেলা নদীর পাড়ে পূর্ব চাইরগাঁও গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
এবিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে দোয়ারাবাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সানোয়ার হোসেন নামের এক ভুক্তভোগী।
অভিযুক্তরা হলেন, পূর্ব চাইরগাঁও গ্রামের মৃত হানিফ আলী’র ছেলে রহিম আলী (৪০),আব্দুল বারীর ছেলে শফিক মিয়া (৪২), আছদ্দর আলী’র ছেলে আছকির মিয়া (৫০), জিলু মিয়া’র ছেলে আব্দুন নুর (৩৫),আব্দুস সাত্তার এর ছেলে
আলিম উদ্দিন (৪০), সুরুজ আলী’র ছেলে
জসিম উদ্দিন (৪৫) ও কামাল মিয়া, আব্দুর রহিমের ছেলে সাজিদ আলী,
সাজিদ আলী’র ছেলে
শামিম আহমদ, সুরুজ আলী’র ছেলে
হেলাল মিয়া।
অভিযোগ সূত্র আর ভুক্তভোগীরা জানান, আজ থেকে প্রায় তিন যুগের বেশি সময় আগে চাইরগাঁও গ্রামের আব্দুল বারীর কাছ থেকে চেলা নদীর পাড়ের পূর্ব চাইরগাঁও গ্রামে অবস্থিত ওইসব জমি ক্রয়সূত্রে মালিক হন পূর্ব চাইরগাঁও গ্রামের কামাল উদ্দিন মাষ্টার। জমি কিনে কিছু জমিতে বসতভিটা এবং বাকি অংশে চাষাবাদ শুরু করেন তারা। তবে কখনো জমির মালিকানা দাবি করেনি কেউ। নদীর পাড়ের এসব জমি কেনার ও চাহিদা ছিলোনা কারো। চলতি বছর চেলা নদীতে নিয়মবহির্ভূত ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের মহোৎসব শুরু হওয়াতে নদীর পাড়ের এসব জমির দাম ওঠে আকাশচুম্বী। যেভাবে পারে ক্ষমতার প্রভাবে জমি দখল করে বিক্রি ও বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। গত কয়েকমাস আগে স্থানীয় আব্দুল বারীর ছেলে সফিক মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন আত্মীয় স্বজনসহ বালুখেকু একটি চক্র হঠাৎ নদীতে সেইভ মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করতে আসে। বাঁধা দিলে তারা নিজেদের জমি দাবি করে হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে একাধিকবার তারা জমিতে জোরপূর্বক বালু উত্তোলন করতে আসলে একপর্যায়ে স্থানীয়রা বিষয়টা মিমাংসা করার জন্য বৈঠকের ব্যবস্থা করে। প্রথম বৈঠকে সার্বিক বিষয়ে আলোচনার পর বিষয়টি মিমাংসার জন্য আরেকটি বৈঠকের দিন ধার্য্য করা হয়। কিন্তু স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গের বৈঠক বসার আগেই বুধবার লাঠিয়ালী সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে জমিতে আসে এবং জোরপূর্বক বালু উত্তোলন করতে খুঁটি স্থাপন করে যায়। সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে চাষীদের জমি থেকে উচ্ছেদের হুমকি দিয়ে চলে যায়।
এরই জেরে বৃহস্পতিবার ভোর ৬ টার দিকে উক্ত জমিতে থাকা বিভিন্ন জাতীয় ফসল কেটে নেয় অভিযুক্তরা।
ভুক্তভোগী সানোয়ার হোসেন জানান, বুধবার একদল সন্ত্রাসী বাহিনী জমিতে বালু উত্তোলনের উদ্দেশ্যে খুঁটি স্থাপন করে দখলের চেষ্টা চালায়। বৃহস্পতিবার সকালে আবারো সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ফসল কেটে নষ্ট করে দেয়। তারা নদীর পাড়ে অস্ত্র-স্বস্ত্র মজুদ রেখেছে। আমরা জীবন নিয়ে ঝুঁকিতে আছি।
অজুফা এবং মুমেনা বেগম নামে ক্ষতিগ্রস্থ আরো দু’জন বাসিন্দা বলেন, ‘ বুধবার দিনে দুপুরে তারা জমিতে বালু উত্তোলন ও দখল করতে আসে। রহিম আলী ও শফিক এর নেতৃত্বে ৫০ থেকে ১০০ জন সন্ত্রাসী আমাদের জমিতে এসে দখলের চেষ্টা করে। আমরা নিষেধ দিলে আমাদেরকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়। বৃহস্পতিবার সকালে ফলন্ত জমির ফসল নষ্ট করে দেয় তারা। এখানে চাষাবাদ করলে হত্যা করা হবে বলে শাসিয়েও গেছে। জমির ফসলের ওপর আমার পুরো পরিবার নির্ভরশীল, এখন এই জমিটুকু কেড়ে নিলে পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে।’
জমি দখলের পায়তারায় ফসল নষ্টের দায়ে অভিযুক্তদের একজন আলিম উদ্দিন অস্বীকার করে বলেন, এবিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।
অভিযোগের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, চেলা নদীর পশ্চিম পাড়ের পূর্বচাইরগাঁও এলাকায় জমি দখলের চেষ্টায় খুঁটি স্থাপনদের অভিযোগে বুধবার রশিদ মিয়া নামের এক লোক অভিযোগ করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বৃহস্পতিবার আরেকজন বাসিন্দা থানায় এসে ফসল নষ্টের অভিযোগ করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্তে ফসল নষ্টের প্রমাণ মিলেছে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এবিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদুল ইসলাম বলেন, বালু উত্তোলনের উদ্দেশ্যে জায়গা দখলের চেষ্টায় ফসল নষ্টের বিষয়টা অমানবিক ও দুঃখজনক। ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply