জগন্নাথপুর প্রতিনিধিঃ-
সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের গাদিয়ালা গ্রুপ জলমহালের পার্শ্ববর্তী হামহামিয়া জলমহালের ইজারাদারগণ হারাহারি খাটি বাঁধ/ পাটিবাধ নির্মাণ করে জলমহালের মাছের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্ঠির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বাঁধ নির্মাণের প্রস্তুতিকালে অর্থাৎ ১লা সেপ্টেম্বর গাদিয়ালা গ্রুপ জলমহালের ইজাদার পূর্ব ইব্রাহিমপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেড-এর সাধারন সম্পাদক মো: মুসলিম উদ্দিন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবরে বাঁধ নির্মাণের সকল প্রকার প্রস্তুতি বন্ধের আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৪সেপ্টেম্বর রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর মো: সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পত্রে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করেন। এরই মধ্যে গাদিয়ালা গ্রুপ জলমহালের পার্শ্ববর্তী ইজারাদার ভবানীপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লি:-এর সভাপতি মানিক লাল, চিলাউড়া পুঞ্জি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ-এর সভাপতি মো: গৌছ মিয়া, বেতাউকা ও গাদিয়ালা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ-এর সভাপতি আব্দুল হক, টংগর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ-এর সভাপতি মো: আয়না মিয়া ও গাদিয়ালা গ্রুপ জলমহালের সমধল অংশের উত্তর পশ্চিম ডহর-এর ইজারাদার মো: আখলাকুর রহমান লুলু এবং জাকির হোসেন খাটি বাধ ও পাঠিবাধ নির্মাণ করে মাছের অবাধ চলাফেরা বিঘœ ঘটায়। এনিয়ে জলমহাল এলাকায় উভয় পক্ষের ইজারাদারদেও মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় জলমহাল এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানায়। সরেজমিনে গেলে দেখা যায় হামহামিয়া জলমহালের ইজারাদাররা ভূরাখালী সুইচ গেইট এলাকা থেকে কবিরপুর এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার ভাসমান পানিতে খাটি ও পাঠিবাধ নির্মাণ করে মাছের অবাধ চলাফেরার বিঘ্ন সৃষ্ঠি করে কিছু লোভী মৎস্যজীবি সমিতি। লোভী মৎস্যজীবি সমিতি মাছগুলোকে তাদের জলমহালে বন্ধি করার জন্য এধরনের বাঁধ নির্মাণ করে। এর ফলে গাদিয়ালা গ্রুপ জলমহালের ইজাদার পূর্ব ইব্রাহিমপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
এ ব্যাপারে পূর্ব ইব্রাহিমপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেড-এর সভাপতি মুসলিম উদ্দিন জানান, বাঁধ নির্মাণের প্রস্তুতিকালে আমরা পাশ্ববর্তী জলমহালের ইজারাদারগণকে বাঁধ নির্মাণ না করতে বলি। তারা আমাদের কথা অমান্য করায় আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকিয়া জেলা প্রশাসক মহোদয় বরাবরে বাঁধ নির্মাণ বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আবেদন করি। আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক মহোদয় ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে পত্র প্রেরন করলেও অদৃশ্য কারণে এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। এরই মধ্যে আমার পাশ্ববর্তী ইজারাদারগণ বাধ নির্মাণ করে মাছের অবাধ বিচরণে বিঘ্ন ঘটায়। ২৫ সেপ্টেম্বর ও ৩ নভেম্বর আমার ইজারাকৃত জলমহালে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৩০লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে। বিষয়টি আমি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনকে মৌখিকভাবে অবহিত করি। জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাজেদুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
Leave a Reply