জামাল হোসাইন জগন্নাথপুর প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জ জেলায় জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নে নয়াবন্দর বাজার থেকে দাওরাই হয়ে পাটকুড়া বাজার পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন জায়গায় পিচ-খোয়া উঠে গেছে অনেক আগেই। এখন সেখানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় খানাখন্দের। সড়কে বেহাল দশায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন যাত্রীরা। বৃষ্টি হলে পানি জমে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের নয়াবন্দর বাজার থেকে দাওরাই হয়ে পাটকুড়া বাজার পর্যন্ত সড়কটির এই দশা কয়েক বছর ধরে। আশারকান্দি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাজন খান বলেন, এই সড়ক দিয়ে কয়েক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াত। রাস্তার এমন করুন যে রাস্তা দিয়া চলাচল করা সম্ভব না। রাস্তটি সংস্কার করা একান্ত জরুরি। রাস্তাটি সংস্কার করতে নদীর পারে গার্ড ওয়াল নির্মান করে আরসিসি করে নির্মান করা হলে টেকসই ও মজবুত রাস্তা হবে।
এ ব্যাপারে স্বর জমিনে জানতে গেলে আশারকান্দি গ্রামের গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী পারভেজ বলেন, ২০২৩ সালে টেন্ডার হয়েছিল কাজ সম্পন্ন না করে ঠিকাদার পালিয়ে যায়, পরে অন্তরবর্তী সরকার আসার পরেও কোন কাজ না হওয়ায় রাস্তার অবস্থা আরো বেশি খারাপ হয়ে পরে। তিনি আরো বলেন রাস্তার পাশে নদী থাকায় নদীতে অনেকে বাদ দেওয়ার ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে প্রতিবছরই বর্ষাকালে রাস্তা ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়। তাই উনার দাবী নদীর বাঁধ গুলা ভেঙে দিয়ে নদীর পানি চলা চলের সহযোগিতা করে রাস্তা সংস্কার করলে সহজে আর রাস্তা নষ্ট হবে না। এব্যাপারে ফোনে যোগাযোগ করলেন মিয়া মুহাম্মদ ইউসুফ বলেন, রাস্তার যে অবস্থা রাস্তা সংস্কার করতে হলে রাস্তার পাশে যেহেতু নদী, নদী ভাঙ্গন থেকে রাস্তাকে রক্ষা করতে হলে মাঝেমধ্যে গাইড ওয়াল এবং আরসিসি ঢালাইয়ের প্রয়োজন, তবে আমাদের সুনামগঞ্জ ৩ আসনের এমপি কয়ছর আমাদের সাথে যোগাযোগ হয়েছে উনি বলেছেন রাস্তার আবেদন হয়েছে খুব দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার হবে। রাস্তার পাশে বাড়ি জামালপুর গ্রামের হাজী সোহেল আহমেদ খান টুনু বলেন, আমাদের এমপি কয়েক মাস আগে দুই লক্ষ টাকা দিয়ে ইটের আদলা পেলে সাময়িকভাবে মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত পূর্ণ সংস্কার হবে। মঙ্লবার (১১ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, সংস্কারের অভাবে সড়কের পুরোটাই খানাখন্দে ভরে গেছে। ছোট-বড় গর্ত এড়িয়ে যানবাহন চলছে এঁকেবেঁকে। গর্তের অনেক জায়গায় পানি জমে আছে। আবার অনেক জায়গায় গাড়ি চলার সময় আশপাশ ধুলাময় হয়ে যাচ্ছে। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় বিশাল গর্তে গাড়ি আটকে গিয়ে যানজটের সৃষ্টি হতে দেখা যায়।
এলাকার স্থানীয় একাধিক বাসিন্দারা জানান এই সড়ক দিয়ে বিভিন্ন গ্রামের প্রসূতি মহিলা, জরুরি রোগী নিয়ে বিভাগীয় শহর সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা সদর হাসপাতালে এম্বুলেন্স, সিএনজি, ইজিবাইক নিয়ে এই সড়ক দিয়ে যাওয়া-আসা করে। এখন সড়কে বিপজ্জনক অবস্থা। বর্তমানে রাস্তা চলাচলের একেবারে অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে।
সিএনজি চালক রমজান আলী বলেন, নয়াবন্দর বাজারের পর থেকে রাস্তা খুবই খারাপ হয়ে পড়েছে। তারপরও যাত্রীদের গালমন্দ আর গাড়ির ক্ষতি মেনে ওই পথ দিয়েই গাড়ি চালাতেন। তবে মাস দুই ধরে এতটা খারাপ হয়েছে, ওই পথে আর পরিবহনের গাড়ি চলছে না।
এ বিষয়ে এলজিইডি প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য, ৫ কোটি টাকার বরাদ্দ ছেয়ে একটা আবেদন করা হয়েছে এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যেই পেয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পেয়ে গেলে খুব দ্রুতই সংস্কার কাজ শুরু করে দেবো।
Leave a Reply