দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক এমএ আব্দুল মোতালিব ভূঁইয়াকে হত্যাচেষ্টায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম এর দায়ে অভিযুক্ত মাদক সম্রাট আব্দুল আহাদকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আটক আব্দুল আহাদ ভূঁইয়া ওই গ্রামের ইউসুফ ভূঁইয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আব্দুল আহাদ বাংলাবাজার ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকায় মাদক, মানব পাচারসহ বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় ও স্থানীয় একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করে আসছিলেন সাংবাদিক এমএ আব্দুল মোতালিব ভূঁইয়া। এর জেরেই ওই সাংবাদিক আহাদের বিরাগভাজন হন বলে অভিযোগ।
সম্প্রতি ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রির একটি মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর জামিনে মুক্তি পান আহাদ। অভিযোগ রয়েছে, জামিনে বেরিয়ে গত সেপ্টেম্বর মাসে তিনি প্রথমে সাংবাদিক মোতালিব ভূঁইয়ার কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে গালিগালাজ করেন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। তাৎক্ষণিকভাবে ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন সাংবাদিক মোতালিব। এরপরও তাঁকে একাধিকবার হামলার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ।
এসব বিষয় দোয়ারাবাজার থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর থেকে আব্দুল আহাদ দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চৌধুরীপাড়া বাজারে নিজ কার্যালয়ে বসে কাজ করছিলেন দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সংবাদ-এর উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক এমএ আব্দুল মোতালিব ভূঁইয়া। এ সময় আব্দুল আহাদ পূর্বপরিকল্পিতভাবে কার্যালয়ে ঢুকে ভারতীয় একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন।
এ সময় মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করলে তাঁর হাত দিয়ে আর লিখতে পারবেন না—এমন হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলায় সাংবাদিক মোতালিব ভূঁইয়ার ডান হাতের কবজি, কনুইসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
আহত অবস্থায় সাংবাদিক মোতালিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার শুরু করেন। তাঁর রক্তাক্ত অবস্থা এবং চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে, হামলার পর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা আব্দুল আহাদকে আটক করে। পরে তাঁকে ওই কার্যালয়ের একটি কক্ষে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয় এবং পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
মাদক, অস্ত্র ও একাধিক মামলার অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি দোয়ারাবাজার থানা-পুলিশের একটি মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান আব্দুল আহাদ। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।
এর আগে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি মৌলারপাড় গ্রামে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তলসহ তাঁকে আটক করেছিল বলে স্থানীয় সূূত্রে জানা গেছে।
এ ছাড়া দক্ষিণ কলোনি গ্রামের নাজিম উদ্দীনের ছেলে জালাল মিয়াকে ৩০ হাজার টাকার জন্য হত্যার ঘটনায় আব্দুল আহাদ অভিযুক্ত আসামি। ওই ঘটনায় তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন।
অপহরণ, মানব পাচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগেও তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া নিজের শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
আব্দুল আহাদ ভূঁইয়াকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার।
এদিকে,
সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
Leave a Reply