স্টাফ রিপোর্টার:-
সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য মো: আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে অভিযোগ ও অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
দোস্তপুর গ্রামের হাজি বাড়ির বাসিন্দা মৃত হাজি মিছির আলীর পুত্র আব্দুল জলিল ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সুনামের সাথে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযতভাবে পালন করে আসছেন। এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের মধ্যে দিয়ে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন করে যাচ্ছেন।
এলাকাবাসী জানান, ইউপি সদস্য আব্দুল জলিলের পিতা এলাকার একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ও এলাকার গরীব অসহায় লোকজনদের আশ্রয় সহ তাদের সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। হাজি মিছিল আলী একজন ব্যবসায়ী হিসেবে এলাকায় ব্যাপক সুনাম ছিল।
গত ৫ জুলাই রানীগঞ্জ ইউপি সদস্য আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে দোস্তপুর গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা মৃত রাশিদ আলীর পুত্র জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের জারীকারক মো: হাবিবুর রহমান উত্তরাধীকারী সনদ পত্রে স্বাক্ষর না দেয়ার অভিযোগে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে অভিযোগপত্র দায়ের করেন।
শুক্রবার সরেজমিনে দোস্তপুর গ্রামে গিয়ে এলাকার ৮০ বছর বয়েসী মধু মিয়ার নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, হাজি মিছির আলী মুক্তিযোদ্ধকালীন সময় আমাদের এলাকার একজন বড় ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি মুক্তিবাহিনী ও এলাকার মানুষকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। এ এলাকার মানুষ তার নিকট চীর কৃতজ্ঞ।
বিশিষ্ঠ মুরব্বী হাজি ছোবা মিয়া জানান, বীরমুক্তি যোদ্ধা মৃত রাশিদ আলী আমার জানামতে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। যুদ্ধ পরবর্তী সময় তিনি জীবন জীবিকার তাগিদে প্রবাসে চলে যান। সেখান থেকে ফিরে এসে বিভিন্ন ব্যবসা বাণিজ্য করেন। পরবর্তীতে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেন। শুনেছি তার ছেলে হাবিব যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার উত্তরাধীকারী হিসেবে সনদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন করেন। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা না হওয়ায় মেম্বার আব্দুল জলিল সনদে স্বাক্ষর করেননি। তবে সরকারের কোন তালিকায় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকা ভুক্তি আছে কিনা আমার জানা নেই।
দোস্তপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রভাষক আবু খালেদ জানান, আমাদের গ্রাম ৩জন বীর মুক্তিযোদ্ধার জন্ম স্থান। রাশিদ আলী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা নন। আমার জানামতে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় হাজি মিছির আলী একজন বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী হিসেবে এলাকার মানুষদেরকে আশ্রয় সহ সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। একটি মহল ইউপি সদস্য আব্দুল জলিলের উন্নয়ন কর্মকান্ডে ঐশর্^ান্বিত হয়ে এবং তাকে দিয়ে অবৈধ সুবিধা হাসিল করতে না পেরে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত থেকে আব্দুলল জলিল ও তার পরিবারের মান সম্মান ক্ষুন্ন করছে। আমরা এসব অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবী জানাই।
প্রবীণ মুরব্বী এলাইচ মিয়া জানান, হাজি মিছির আলী আজ থেকে প্রায় ৩৫ বছর পূর্বে মারা যান। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় আমাদের এলাকার অসহায় মানুষকে তিনি সহযোগিতা করেছেন। তার বিরুদ্ধে কিছুলোক মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তার পরিবারের মান সম্মান নষ্ট করার পায়তারা চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল জলিল জানান, আমার ওয়ার্ডের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশিদ আলীর উত্তরাধীকারী সনদে স্বাক্ষরের জন্য আসলে আমি সনদে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা অংশটি বাদ দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা লিখে আনতে বলি। কারন আমার জানামতে রাশিদ আলী একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা। উত্তরাধিকারী সনদে স্বাক্ষর নিতে আসা ব্যক্তি বীরমুক্তিযোদ্ধা রাশিদ আলী যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কোন প্রমাণ আমার নিকট উপস্থাপন করতে না পারায় আমি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বীরমুক্তিযোদ্ধা রাশিদ আলীর উত্তরাধিকারী সনদে স্বাক্ষর করিনি। আমাকে দিয়ে অবৈধ সুবিধা গ্রহন করতে না পেরে রাশিদ আলীর ছেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের জারীকারক হাবিবুর রহমান আমার পিতাকে জড়িয়ে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ইউএনও বরাবরে একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন। আমি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে উক্ত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবী করছি ।
রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম রানা জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশিদ আলী আমার আত্মীয় হওয়ায় এবং ইউপি সদস্যের স্বাক্ষর পরে নিবে বলায় আমি উত্তরাধিকারী সনদে প্রতি স্বাক্ষর দিয়েছি। যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কোন প্রমাণ না থাকায় ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল উত্তরাধিকারী সনদে স্বাক্ষর দেননি বলে আমাকে জানান। তবে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রমাণপত্র আমার কার্যালয়ে দাখিল করতে পারলে ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল অবশ্যই উত্তরাধিকারী সনদে স্বাক্ষর করবেন।
Leave a Reply