মোঃ সাগর আহমেদ নবীগঞ্জ::
একসময় যেখানে ফলত সোনালি ফসল, আজ সেখানে বইছে কুশিয়ারা নদীর স্রোত। নদীভাঙনে চোখের সামনেই হারিয়ে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন, বিলীন হচ্ছে বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা সম্পদ।হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে কুশিয়ারা নদীর ভাঙন। ভাঙনের প্রভাব পড়েছে নদীর অপর পাড়ের সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নেও।৫৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে কুশিয়ারা ডাইক নির্মাণ ও মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ভাঙনকবলিত এলাকায় কার্যকর সুরক্ষা মিলছে না। প্রকল্পের কাজ চললেও ঝুঁকিতে থাকা জমি ও বসতভিটা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁদের।
স্থানীয় বাসিন্দা কৃষক বলেন, আমার এখানে তিন একর জমি ছিল। নদীভাঙনে সব বিলীন হয়ে গেছে। সরকারিভাবে প্রকল্পের কাজ এলেও আমরা ঠিকাদারকে ভাঙনকবলিত স্থানে বস্তা ফেলার অনুরোধ করি। কিন্তু তাঁরা শুকনো জায়গায় বস্তা ফেলার কথা বলেন। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের জমি ও বাড়িঘর রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। শুধু ফসলি জমি নয়, নদীভাঙনে নিঃস্ব হচ্ছেন অনেক পরিবার। ইতোমধ্যে অন্তত ৫০০ পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ডাইক নির্মাণ ও মেরামতের উদ্যোগ থাকলেও অনিয়মের কারণে প্রত্যাশিত সুফল পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। কুশিয়ারা নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকল্পের কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি।সাবেক মেম্বার মহসীন মিয়া বলেন, দীঘলবাকসহ নদীতীরবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতিবছরই নতুন করে ক্ষতির মুখে পড়ছেন বাসিন্দারা।হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ছায়েদুর রহমান বলেন, শেরপুর ব্রিজ থেকে দীঘলবাক, পাহাড়পুর, মার্কুলী হয়ে আজমিরীগঞ্জ পর্যন্ত ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্পের আওতায় কাজ চলছে। দীঘলবাকের সব স্থানে কাজ করা সম্ভব হয়নি। যেসব স্থানে কাজ হয়েছে, সেখানে ভাঙন রোধ করা গেছে। বাকি ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে কৃষিজমি হারানোর পাশাপাশি বসতভিটা হারিয়ে আরও অসহায় হয়ে পড়বেন কুশিয়ারা পাড়ের মানুষ। তাই ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রকল্পের কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ডাইক নির্মাণকাজ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের দাবি তাঁদের।
Leave a Reply