দৈনিক দেশবাংলা ডেস্ক::
ডাক্তার জহিরুল ইসলাম (অচিনপুরী) প্রতিষ্ঠিত ‘নিরাপদ যাতায়াত বাস্তবায়ন পরিষদের গেটটুগেদার অনুষ্ঠানে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে কাজের ধীরগতির কারণ অনুসন্ধান নিয়ে ডাক্তার জহিরুল ইসলাম বলেন, জেলা কমিটির অভিষেকের পরে পাচঁটা এজেন্ডা ছিল, তার মধ্যে তিনটা এজেন্ডা নিয়েই আমরা বেশি আলোচনা করেছি। তিনি বলেন, ঢাকা-সিলেট ছয়লেন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে বেশ আলোচান হয়। আমরা বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন মিডিয়াতে দেখে আসছি যে, বিভিন্ন জায়গায় জমি অধিগ্রহণ নিয়ে মানুষজনের মধ্যে কিছু অসন্তুষ সৃষ্টি হচ্ছে, গত কয়েকদিন পূর্বে দক্ষিণ সুরমাস্স রশিদপুর নামক স্থানে একটা মানববন্ধন হয়েছে, সেখানে ভুক্তভোগীরা বলেন, জমি অধিগ্রহণে স্থানীয়ভাবে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের অসহযোগীতা এবং নানান অনিয়ম অভিযোগ তুলেন। সেখান থেকেই আমরা সড়ক বাস্তবায়ন প্রকল্পের কাজের বিলম্বিত একটা বড় কারণ বুঝতে পারি। আমাদের সংগঠন ‘নিরাপদ যাতায়াত বাস্তবায়ন পরিষদ’ এর সিদ্ধান্ত হল, যেখানে জমি অধিগ্রহণ জনিত সমস্য বা আমলাতান্তিক জটিলতা আছে এবং যেখানে দুর্নীতির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে- আমরা জনগন এই জমি অধিগ্রহণে বিষয়ে আমলাতান্তিক জটিলতা যথাসম্ভব দ্রততার শেষ করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। এই বিষয়ে যেকোন ধরনের দুর্নীতির প্রশ্রয় না দেওয়ার জন্যও সরকাররে কাছে আমাদের বড় দাবি জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, আমরা জানি যে, ঢাকা-কাচঁপুর থেকে সিলেটের পীর হাবিবুর রহমান চত্তর পর্যন্ত পুরো প্রকল্পকে ৬টা ডিএসএ ভাগ করা হয়েছে। ডিএস-১, ডিএস-২, ডিএস-৩, ডিএস-৪, ডিএস-৫ এবং ডিএস-৬, প্রত্যেতটা ডিএসএ একজন করে প্রজেক্ট ম্যাসেজার রয়েছেন। পিএম-১, পিএম-২, পিএম-৩, পিএম-৪, পিএম-৫, এবং পিএম-৬, প্রত্যেক প্রজেক্ট ম্যাসেজারকে জবাবদিহিতার ভিতওে আনতে হবে। ঢাকা-সিলেট ছয় লেন প্রকল্পের একেকটা প্রজেক্টের সমস্যা একেক রকম এবং এইগুলো কিন্তু ইকুয়ালি চলতেছে না। এককেটা প্রজেক্টের উন্নতি বেশি আবার কোনটার উন্নতি নাই। কাজের চিত্র একেক রকম। পার্সেন্টেজ আকার চিত্র ভিন্ন! আামাদের কথা হল, পিএম-১, পিএম-২, পিএম-৩, পিএম-৪, পিএম-৫, এবং পিএম-৬ এদেরকে জবাবদিহিতার ভিতওে নিয়ে আসতে হবে। পিএম-৬, হল সিলেটের লালাবাজার থেকে পীর হাবীবুর রহমান চত্তর পর্যন্ত, এই এলাকার জনপ্রতিনিধি মাননীয় সাংসদ এম এ মালেক এই বিষয়ে তদারকি করা উচিত। পিএম-৬ এর ভেতরে যেসকল প্যাকেজ রয়েছে, তার মধ্যে কাজ বাস্তবায়ন, টাকা পেমেন্টের বিষয়, কোথায় কত টাকা খরচ হবে এই সকল প্যাকেজের বিষয়ে আমলাদেরকে জবাবদিহির ভিতরে নিয়ে আসবেন। পিএম-৫ হল, লালাবাজার থেকে ওসমানীনগর শেষ সিমানা পর্যন্ত সেখানে মাননীয় সাংসদ তাহসিনা রুশদীর লুনা ‘পিএম-৫, প্যাকেজের বিষয়ে আমলাদেরকে জবাবদিহির ভিতরে নিয়ে আসবেন। আমার জানি জমি অধিগ্রহণজনিত সমস্যা সুরাহা করার জন্য সরকারের প্রচেষ্টা রয়েছে কিন্তু আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতার দৌরাত্তে এটা স্ত্রির হয়ে আছে। এইভাবে যদি সকলে এগিয়ে আসেন তাহলেই সিলেট-ঢাকা ছয় লেনের কাজ দ্রত শেষ করা যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। নিরাপদ যাতায়াত বাস্তবায়ন পরিষদের দ্বিতীয় এজেন্ডা ছিল, রেলওয়ে টিকেট কালোবাজারি বা রেল যাত্রিদের চরম ভোগান্তি নিয়ে কি করা যায়। অনলাইনে টিকেট কালোবাজারি হচ্ছে, সহজে মানুষ টিকেট পাচ্ছে না, ভোগান্তি হচ্ছে! রেলওয়ে টিকেট নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়াতে নিউজ দেখা যায় কিন্তু কি কারনে সমস্যা আমরা জানানি না! নিরাপদ যাতায়াত বাস্তবায়ন পরিষদ’ একটা জরিপ কার্য করবে এবং আমরা প্রমান করবো যে, জনদুর্ভোগ কতটা হচ্ছে এটা জরিপে চলে আসবে। আমারা আশঙ্কা প্রকাশ করছি, তেলের মূল্য বৃদ্ধিও ফলে বহুমাত্রিকভাবে জনদুর্ভোগ বাড়বে! আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই, তেলের মূল্যে উসিলা নিয়ে বিভিন্নভাবে যাত্রীদেরকে হয়রানী করতে পারে একটা অংশ। এতে করে যাতায়াতে দুর্ভোগ বাড়তে পারে। এজন্য সরকারকে খুব সচেষ্ট হতে হবে। সজাগ হতে হবে, যেন জনদুর্ভোগ কমানো যায়। এসব বিষয়ে সরকার যেন আগেভাগেই সঠিক ব্যবস্থা নেন এটা আমাদের দাবি। এই তিনটা ইস্যু নিয়ে আজকে ‘নিরাপদ যাতায়াত বাস্তবায়ন পরিষদ‘ আলোচনা করছি।
Leave a Reply