মোঃ সাগর আহমেদ নবীগঞ্জ থেকে::
একটি আই ফোনের জন্য বন্ধুর হাতে বন্ধু হওয়ায় ঘটনাটি নবীগঞ্জে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘাতক ও নিহত দু’ বন্ধুর বাড়ি উপজেলার চৌশতপুর গ্রামে। ঘাতক সায়েল মিয়ার দেয়া তথ্য মতে পুলিশ লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের একটি ডুবা থেকে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে তারেক আহমেদ’র (২১) মৃতদেহ উদ্ধার করেছে।
স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, নবীগঞ্জ উপজেলার সদও ইউনিয়নের চৌশতপুর গ্রামের মহব্বত উল্লার ছেলে তারেক আহমেদ এবং একই গ্রামের নুরুজ্জামানের ছেলে সাহেল মিয়া বাল্য বন্ধু। কয়েকদিন পুর্বে দু’বন্ধু লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামে একটি বিল্ডিংয়ের নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজে যায়। গত ২৫ অক্টোবর তারেক আহমেদ এর পিতা মহব্বত উল্লা ছেলে নিখোঁেজর বিষয়ে নবীগঞ্জ থানায় জিডিনং ১২০৯ দায়ের করেন। এতে উল্লেখ্য করেন তারেক গত ২১ অক্টোবর দুপুরে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। নিখোজেঁর পর থেকে পরিবারের লোকজন তার বন্ধু সাহেল মিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে খোজাঁখুজি করে তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। এদিকে তারেকের বন্ধু সাহেল এর কথাবার্তায় তাদের সন্দেহের সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার বিকালে সাহেল মিয়া বাড়িতে আসলে গ্রামবাসী তাকে আটক করে। পরে পুলিশে খবর দিলে এসআই জয়ন্ত তালুকদারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ চৌশতপুর গ্রামে যান। এ সময় পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সাহেল মিয়া তার বন্ধু তারেক আহমেদ’কে দা’ দিয়ে খুপিয়ে হত্যা করে লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের একটি ডুবাতে লাশ গুম করে রাখে। এবং তারেকের হাতের আই ফোনটি নিয়ে বিক্রি করে দেয়। ঘাতক সাহেল মিয়া জানায়, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) গভীর রাতে আই ফোন নেয়ার জন্য ঘুমন্ত বন্ধু তারেক আহমেদকে দা’ দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে ৫০ হাজার টাকার আই ফোন ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি কওে এবং লাশ গুম করে সেখান থেকে পালিয়ে আসে। এদিকে ঘাতকের দেয়া তথ্যমতে নবীগঞ্জ থানার ওসি মোঃ আবুল হোসেন এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ লাখাই উপজেলার উল্লেখিত স্থান থেকে তারেক আহমেদেও লাশ উদ্ধার করেন। এ ব্যাপারে অফিসার ইনচার্জ আবুল হোসেন বলেন, আটককৃত সাহেলের স্বীকারোক্তি মতে লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি এলাকার একটি ডুবা থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে সাহেল। মামলা দেয়ার পর তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Leave a Reply