শাহজাহান সেলিম বুলবুল, টরন্টো-কানাডা::
কানাডা টরন্টোর পৌর নির্বাচনে সিটির চাবিকাঠি আবারও দৃঢ় হাতে অলিভিয়া চাউয়ের কাছে সঁপে দিয়েছেন ভোটাররা। সিটি হলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার যে উচ্চাশা দেখিয়েছিলেন কাউন্সিলর ব্র্যাড ব্র্যাডফোর্ড, তা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। সোমবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে টরন্টো সিটির ইতিহাসে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে নিজের আসন পাকাপোক্ত করেছেন বর্তমান মেয়র অলিভিয়া চাউ।
প্রাথমিক ও প্রায় শতভাগ কেন্দ্রের ফলাফলে দেখা গেছে, অলিভিয়া চাউ ৫ লাখ ৩২ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে টরন্টোর নির্বাচনী ইতিহাসে কোনো মেয়রের পাওয়া সর্বোচ্চ ভোটের রেকর্ড গড়েছেন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যাড ব্র্যাডফোর্ড পেয়েছেন ৪ লাখ ৪ হাজার ভোট। শহরের ২৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে একাই ১৯টিতে জয় তুলে নিয়েছেন চাউ। শুধু ডাউনটাউন বা মূল শহরই নয়, এবার স্কারবোরোর ছয়টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতেই জয় পেয়ে নিজের অবস্থানকে আরও সংহত করেছেন তিনি।
এবারের নির্বাচনে স্থানীয় কাউন্সিলর পদেও এসেছে নাটকীয় পরিবর্তন। ওয়ার্ড ৫ (ইয়র্ক সাউথ-ওয়েস্টন)-এ সিটির দীর্ঘতম সময় ধরে দায়িত্ব পালনকারী কাউন্সিলর ফ্রান্সিস নুঞ্জিয়াতাকে হারিয়ে বড় চমক দেখিয়েছেন টেন্যান্ট অ্যাডভোকেট কিয়ারা পদোভানি। এছাড়া ওয়ার্ড ১৯ (বিচেস-ইস্ট ইয়র্ক)-এ ব্র্যাডফোর্ডের ছেড়ে দেওয়া আসনে বিজয়ী হয়েছেন সাবেক লিবারেল এমপি নেট আরস্কিন-স্মিথ, যিনি পেছনে ফেলেছেন সিটিভি নিউজের সাবেক সাংবাদিক নাটালি জনসনকে। অন্যদিকে, ওয়ার্ড ২০ (স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট)-এ পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বী কেভিন রুপাসিংহেকে টপকে নিজের আসন ধরে রেখেছেন পার্থি কান্দাভেল।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ আগের তুলনায় বেশ সন্তোষজনক ছিল এবং প্রায় ৪৬ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। আবাসনসংকট মোকাবিলা, বাড়িভাড়ার লাগাম টানা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের মতো ইস্যুগুলোতে সাধারণ মানুষ আবারও চাউয়ের প্রগতিশীল নীতির ওপরই আস্থা রেখেছে। সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে আগামী নভেম্বরেই শপথ নিতে যাচ্ছে নতুন এই সিটি কাউন্সিল। বিশাল এই জনসমর্থন নিয়ে মেয়র অলিভিয়া চাউ ও নতুন কাউন্সিলররা নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে পারেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
Leave a Reply