মোঃ মুকিম উদ্দিন স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নির্মান করা হলেও দীর্ঘ এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পর চালু হয়নি চিকিৎসা সেবা। যার ফলে স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ।
জানা যায়,২০০৬ সালে ২৭ জুলাই ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা। পরে ২০২১ সালে নাম পরিবর্তন করে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নামকরন করা হয়। দীর্ঘ এক যুগের অধিক সময় পার হলেও এই উপজেলায় স্থাপিত হয়নি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
দেড় যুগ ধরে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত উপজেলার প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ। বিগত এক বছর পূর্বে
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এপি’র প্রচেষ্টায় স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের অধীনে ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ৪ তলা ভবনটি নির্মান করা হয়। নির্মাণ কাজের পর পরই ২০২১ সালের ২৪ মে থেকে সুনামগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের নির্ধারিত ক্যাম্পাস নির্মাণ না হওয়ায় নব নির্মিত শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনকে তাদের অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসাবে কার্যক্রম শুরু করে। শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে প্রয়োজনীয় লোকবল, অপারেশন থিয়েটারসহ যন্ত্রপাতি থাকলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চালু হয়নি আদৌ। এতে করে শান্তিগঞ্জ উপজেলার প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত রয়েছেন। গর্ভবর্তী মহিলাসহ কোন লোক অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য শান্তিগঞ্জ উপজেলা থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল বা শান্তিগঞ্জ উপজেলা থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। যার ফলে হাসপাতালে নেওয়া অবস্থায় অনেক রোগী রাস্তায় মৃত্যু বরন করে থাকে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস গ্রামের বাসিন্দা রুকন উদ্দিন বলেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলাবাসীর একমাত্র দাবীর প্রেক্ষিতে শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপন করা হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা না দিয়ে চালু করা হয়েছে সুনামগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস। যারফলে শান্তিগঞ্জ উপজেলার প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।
সাধারণ রোগীসহ গর্ভবর্তী মহিলাদের চিকিৎসার জন্য এ উপজেলায় সরকারি হাসপাতাল না থাকায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে বা সিলেটে চিকিৎসার জন্য যে টাকা ব্যয় হবে তা সংগ্রহ করতে না পারায় বাধ্য হয়ে গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তাদের শরনাপন্ন হয়ে ভুল চিকিৎসার দিকে ধাবিত হচ্ছেন। গর্ভবতী মায়েরা সব সময় ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। অনেক দূরের হাসপাতালে সময় মতো নিতে না পারায় গর্ভবতী অনেকেই মারা যায়। আমরা অচিরেই শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (THO) ডা. জসিম উদ্দিন শরীফি বলেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির নব নির্মিত ভবনগুলি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের লিখিত নির্দেশনা মোতাবেক সুনামগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন মহোদয়ের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজের অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে ব্যবহারের জন্য অধ্যক্ষ মহোদয় বরাবর হস্তান্তর করা হয়েছে। উপজেলার জনসাধারণের চিকিৎসা সেবার বিষয়টি বিবেচনা করে মেডিকেল কলেজের পাশাপাশি সীমিত পরিসরে হলেও সেবা কার্যক্রম চালুর প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য ইতিপূর্বে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর পত্র দেয়া হয়েছে। সেবা চালুর প্রশাসনিক অনুমতি, প্রয়োজনীয় জনবল ও আনুষাঙ্গিক বরাদ্দ পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম চালু করা যাবে।
Leave a Reply