মোঃ হিফজুর রহমান তালুকদার জিয়া::
সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার নলজুর নদীর পাড়ে প্রায় দুই যুগ পূর্বে হবিবপুর গ্ৰামের বাসিন্দা যুক্তরাজ্য প্রবাসী চোট মিয়া কর্তৃক নির্মিত হয় সানলাইট আবাসিক হোটেল। এক সময় আবাসিক হোটেল হিসাবে পরিচালিত হলেও বর্তমানে হোটেলটি অবকাঠামো পরিবর্তন করে মালিক পক্ষ ব্যাচালার বাসা হিসাবে ভাড়া প্রদান করে আসছে। সানলাইট আবাসিক হোটেল এর পাশে নির্মিত হয়েছে সিলেট বিভাগের প্রথম আর্চ গার্ডার ব্রীজ। উক্ত ব্রীজ নির্মানকালীন সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার স্বার্থে সানলাইট হোটেল সংলগ্ন বিদ্যুৎ লাইন সাময়িকভাবে ভূগর্ভস্থ ( মাটির নিচ দিয়ে) স্থাপন করেন বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। এই সুযোগে সানলাইট হোটেল মালিকপক্ষ ভবনের সামনের অংশ তৃতীয় তলা পর্যন্ত অবৈধভাবে সম্প্রসারন করে। যার ফলে বর্তমানে পূর্বের ন্যায় বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। সানলাইট হোটেলের সম্প্রসারিত অবৈধ অংশ অপসারনের ব্যবস্থা গ্ৰহন করতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড,জগন্নাথপুর আবাসিক প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর এক পত্র প্রেরন করেন। যার অনুলিপি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরন করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবাসিক প্রকৌশলী বিদ্যুৎ মোঃ আজিজুর ইসলাম আজাদ স্বাক্ষরিত প্রেরিত পত্রে উল্লেখ করেন, ২০২১ সালের ০৩ অক্টোবর উপজেলা পরিষদের এক সভায় উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, এলজিইডি, বিপিডিবি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিগনের সর্বসম্মত সিন্ধান্তে আর্চ সেতুর উভয় পার্শ্বে বিদ্যমান ৩৩ কেভি,১১ কেভি ও ০.৪ কেভি ওভারহেড বিদ্যুৎ লাইন সমূহ সাময়িকভাবে স্থানান্তর ও ভূগর্ভস্থ ( মাটির নিচ ) দিয়ে চালু করা হয়। সম্প্রতিক আর্চ ব্রীজের পশ্চিম- উত্তরে সানলাইট হোটেল নামীয় ভবনের মালিক পূর্বস্থিত বিদ্যুৎ লাইনের রাইট অব ওয়ে বরাবর ভবনের সামনের অংশ তৃতীয় তলা পর্যন্ত অবৈধভাবে সম্প্রসারন করেছে, যা বিদ্যুৎ অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও পুনঃস্থাপন কার্যক্রমে সরাসরি প্রতিবদ্ধকতা সৃষ্টি করছে। ভবনটি ওভারহেড লাইনের রাইট অব ওয়ে দখল করার পাশাপাশি আন্ডারগ্রাইন্ড কেবলের উপর স্থায়ী কাঠামো (বিম,স্ল্যাব) ইত্যাদি নির্মান করেছে যা ভূগর্ভস্থ লাইনের ফল্ট নিরসনকে সম্পূর্ণরূপে বাধাগ্রস্থ করবে। পত্রে আরো উল্লেখ করেন, বিদ্যুৎ আইন,২০১৮ ( ধারা ১৩) অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিতরন সংস্থা বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন, রক্ষনাবেক্ষণ ও পূর্তকর্মের প্রয়োজনে ভূমি, ভূগর্ভ ও ভূমির উপর আইনসম্মত পথের অধিকার ভোগ করে এবং এ অধিকারে কোন প্রতিবন্ধকতা বা স্থায়ী নির্মান আইনানুগভাবে অপসারনযোগ্য অবৈধ প্রতিবন্ধকতা হিসাবে বিবেচিত। বি এন বি সি ২০২০ অনুসারে বৈদ্যুতিক লাইনের নিচে বা নিকটে স্থায়ী নির্মাণ জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ন এবং অনুমোদন যোগ্য নয়। স্থানীয় সরকার ( পৌরসভা) আইন ,২০০৯ অনুযায়ী পৌর এলাকায় যেকোন ভবন নির্মান বা সম্প্রসারনের জন্য পৌরসভার অনুমোধিত নকশা আবশ্যক,অনুমোদন ব্যতীত নির্মানকে অবৈধ স্থাপনা হিসাবে অপসারন যোগ্য ঘোষনা করা হয়েছে। সানল্ইাট আবাসিক হোটেল মালিকপক্ষের অবৈধ স্থাপনা অপসারন না করলে লাইন পুনঃস্থাপন,জরুরী মেরামত কাজ এবং নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখা গুরুতরভাবে ব্যহত হবে।
এই বিষয় আবাসিক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মোঃ আজিজুল ইসলাম আজাদ জানান, বিদ্যুৎ লাইনের উপর বা নির্ধারিত বিপদসীমার ভিতরে এধরণের স্থাপনা নির্মান শুধু আইন লঙ্ঘনই নয় জনস্বার্থে তা বিপদজনক ও বটে। যা বিদ্যুৎ আইনে, পৌরসভা আইন এবং জাতীয় ইমারত নির্মান বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অবৈধভাবে ভবন নির্মান ও সম্প্রসারণ বন্ধে আমরা স্থানীয় আইন বাস্তবায়নকারী দপ্তর, প্রশাসন ও পৌরসভাকে বিষয়টি লিখিত ভাবে অবহিত করেছি। সানলাইট বোর্ডিং মালিক পক্ষকে ও লিখিত নোটিশ প্রদান করা হবে।
জগন্নাথপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী ( সিভিল) মোঃ হেলাল আবেদীন জানান, পৌর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সানলাইট হোটেলের ভবন নির্মান করা হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে মালিকপক্ষকে নোটিশ করা হবে। সানলাইট আবাসিক হোটেলের কেয়ারটেয়কার মিজানুর রহমান শিপন জানান, আমরা আমাদের মালিকানা ভূমিতে স্থাপনা নির্মান করেছি। এটি ৪০ বছরের পুরাতন একটি স্থাপনা। আমরা আবাসিক হোটেল হিসাবে পৌর করসহ সরকারের সকল প্রকার নিয়ম এবং ফিস প্রদান করে আসছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ বরকত উল্লাহ জানান, বিদ্যুৎ অফিস সানলাইট হোটেলের মালিকপক্ষকে নোটিশ করারপর অবৈধ স্থাপনা অপসারন না করলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
Leave a Reply