বিশেষ প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে সংবাদ প্রকাশ করায় নিজেদের অন্যায় দামাচাপা দিতে তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন পৌর শহরের হবিবপুর গ্রামের তেরা মিয়ার ছেলে মোঃ মনির মিয়া। মনির মিয়া নিজেকে সানলাইট আবাসিক হোটেলের মালিক দাবী করে সাংবাদিক রিয়াজ রহমান, মোঃ আব্দুল ওয়াহিদ ও মোঃ হিফজুর রহমান তালুকদার জিয়ার বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ আদালতে মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলা দায়ের করেন।
উক্ত মিথ্যা মামলা দায়েরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন, বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন, সংবাদ প্রতিষ্ঠান ও গনমাধ্যমকর্মী। পেশাগত দায়িত্ব পালন ও সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সাংবাদিক ফোরাম ইউকের সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন, সহ সাধারণ সম্পাদক আল আমিন , দৈনিক দেশ বাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের উপদেষ্টা মোঃ আকিকুর রহমান চৌধুরী জুবের, দোয়েল টিভির চেয়ারম্যান,মোঃ আখলিছ খান, জগন্নাথপুর সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মোঃ হুমায়ুন কবির, সাধারন সম্পাদক মোঃ গোলাম সারোয়ার, জগন্নাথপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আমিনুর রহমান জিলু, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলী হোসেন খান, আমার দেশ পত্রিকার প্রতিনিধি আমিনুল হক শিপন, দৈনিক জগন্নাথপুর এর সম্পাদক ও প্রকাশক ইকবাল হোসাইন, সাংবাদিক মোঃ মুকিম উদ্দিন, দৈনিক খোলা কাগজ পত্রিকার প্রতিনিধি আল আমিন, দৈনিক আমার সকাল পত্রিকার প্রতিনিধি শাহ ফুজায়েল, দৈনিক বর্তমান বাংলা পত্রিকার প্রতিনিধি সুমন মিয়া, দৈনিক সুনামগঞ্জের সময় প্রতিনিধি বাবুল দাশ, সাংবাদিক রাসেল আহমদ, সাংবাদিক মোঃ শাহাব উদ্দিন রাহুল, প্রমূখ।
বিবৃতিদাতারা অবিলম্বে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধের প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান। পাশাপাশি অবৈধ দখলকার সানলাইট বোডিং এর মালিকের বিরুদ্ধে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
উল্লেখ্য,জগন্নাথপুর উপজেলার নলজুর নদীর পাড়ে হবিবপুর গ্ৰামের বাসিন্দা যুক্তরাজ্য প্রবাসী প্রভাবশালী ও ছোট মিয়া সানলাইট আবাসিক হোটেল (বোডিং) নির্মান করেন। এক সময় আবাসিক হোটেল থাকলে ও বর্তমানে হোটেলটি অবকাঠামো পরিবর্তন করে মালিক পক্ষ ব্যাচালার বাসা হিসাবে ভাড়া প্রদান করেন। নলজুর নদীর ওপর আর্চ গার্ডার ব্রীজ নির্মানকালীন সময় সানলাইট বোডিং এর পাশে থাকা ৩৩ কেভি, ১১কেভি ও ০.৪ কেভি বিদ্যুৎ লাইনসমূহ সাময়িক ভাবে মাটির নিচ দিয়ে স্থাপন করা হয়।
এই সুযোগে সাইলাইট হোটেলের ভবনের সামনের অংশ অবৈধ ভাবে তৃতীয় তলা নির্মান করেন। অবৈধ অংশ অপসারন করতে সাইলাইট বোডিং এর সত্ত্বাধিকারী / দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিকে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারী আবাসিক প্রকৌশলী মোঃ আজিজুল ইসলাম আজাদ স্বাক্ষরিত লিখিত ভাবে নোটিশ প্রদান করেন। নোটিশে উল্লেখ করেন, সানলাইট হোটেল মালিকপক্ষ ভবনের সামনের অংশ তৃতীয় তলা পর্যন্ত অবৈধভাবে সম্প্রসারন করে। যার ফলে পূর্বের ন্যায় বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। এছাড়া ও আন্ডারগ্রাইন্ড কেবলের উপর স্থায়ী কাঠামো (বিম,স্ল্যাব,ফ্লোর) ইত্যাদি নির্মান করেছে যা ভূগর্ভস্থ লাইনের ফল্ট নিরসনকে সম্পূর্ণরূপে বাঁধাগ্রস্থ করবে। এছাড়া ও জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় (এলজিইডি) আর্চ ব্রীজের পশ্চিম এপ্রোচের সাইড স্লোপের উপর সম্প্রসারিত অংশ অপসারনের জন্য নোটিশ প্রদান করেন। উক্ত নোটিশ দুইটির আলোকে তিন সাংবাদিক জনস্বার্থে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করেন । যার ফলে নিজেকে সানলাইটের মালিক উল্লেখ করে মনির মিয়া তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
Leave a Reply