সৈয়দ আছলাম হোসেন সিলেট প্রতিনিধি::
ভাষা সৈনিক ও কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সভাপতি অধ্যক্ষ মাসউদ খান বলেছেন, শিশুদেরকে বই পাঠে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বইপাঠের মাধ্যমে আমাদের নতুন প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে। এই প্রেক্ষাপটে মুসলিম সাহিত্য সংসদে শিশুদের পাঠের জন্য ‘শিশু কর্নার’ গড়ে তোলা হচ্ছে। বর্তমান সময়ে শিশুরা যখন মোবাইলে আসক্ত, এই সময়ে কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের শিশু কর্ণার উদ্বোধন খুবই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।”
শিশু-কিশোরদের বইপাঠে উৎসাহিত করা এবং তাদের জন্য পাঠবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদে (কেমুসাস) ‘শিশু কর্ণার’ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজত সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। আজ সোমবার ৫ অক্টোবর বিকেল ৪টায় কেমুসাস তৃতীয় তলায় পাঠাগার কক্ষে শিশু কর্ণারের উদ্বোধন করা হয়।
কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সভাপতি ভাষাসৈনিক অধ্যক্ষ মাশউদ খাঁনের সভাপতিত্বে ও সাহিত্য সংসদের সহ-লাইব্রেরি সম্পাদক শিশু কর্নার বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যসচিব ইশরাক জাহান জেলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাখেন সংসদের লাইব্রেরি সম্পাদক ও শিশু কর্ণার বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক কবি নাজমুল আনসারী। আলোচনায় অংশ নেন কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক সেলিম আউয়াল, কার্যকরী পরিষদের সহ-সভাপতি রুহুল ফারুক, সাহিত্য সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লেখক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী, সহ-সাধারণ সম্পাদক এডিশনাল পিপি আব্দুল মুকিত অপি, আল ইসলাহ সম্পাদক আহমদ মাহবুব ফেরদৌস, সাহিত্য ও গবেষণা সম্পাদক কামরুল আলম, কার্যকরী পরিষদের সদস্য এডভোকেট কামাল তৈয়ব, ছয়ফুল করিম চৌধুরী হায়াত, মো. ফয়জুল হক, কবি বেলাল আহমদ চৌধুরী, কবি রাহনামা শাব্বীর, ড. মো. তোতিউর রহমান,অধ্যক্ষ হাফিজ মাওলানা জাকারিয়া আল হাসান প্রমুখ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে অনুভূতি ব্যক্ত করেন কবি নিশাত ফাতেমা, মো. জহুরুল ইসলাম মখর ও হোসেন আহমদ প্রমুখ। উপস্থিত শিশুদের পক্ষ থেকে অনুভূতি প্রকাশ করে জান্নাতুল জাহরা। শিশু কর্ণার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন নলেজ হারবার স্কুলের শিক্ষার্থী আহনাফ আনসারী।
স্বাগত বক্তব্যে নাজমুল আনসারী বলেন, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের এই শিশু কর্ণার করা হয়েছে, যাতে শিশুরা বিনামূল্যে বই পড়তে পারে। বই পড়ার জন্য এখানে শিশুদের সুন্দর পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। চাইলে শিশুরা শিশু সদস্যও হতে পারবে।
সাধারণ সম্পাদক সেলিম আউয়াল বলেন, ভবিষ্যতে এই শিশু কর্ণারকে আরও বৃহৎ পরিসরে নেওয়া হবে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, শিশু কর্ণারটি নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় তাদের সম্পৃক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শিশুদের বই পড়ার প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, বর্তমান সময়ে শিশুদের ডিভাইসমুখী না রেখে এবং প্রযুক্তির জ্ঞান দেওয়ার পাশাপাশি বই পড়ার প্রতিও সচেতন হতে হবে।
শিশুদের উপযোগী বই পড়ার সুযোগ সৃষ্টি, জ্ঞান ও সৃজনশীলতার বিকাশ এবং পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে শিশু কর্ণারটি চালু করা হয়েছে। এতে শিশু-কিশোররা তাদের বয়স উপযোগী বিভিন্ন বই পড়ার সুযোগ পাবে।
Leave a Reply