দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে সুদের টাকা পরিশোধের পরও অতিরিক্ত টাকা দাবি, ব্ল্যাকমেইল ও এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত আমির আলী উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের মছন্দর আলীর ছেলে এবং দোহালিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি।
গত ২ অক্টোবর দোহালিয়া ইউনিয়নের বঙ্গবন্ধু বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আইনি সহায়তা চেয়ে বুধবার (৭ অক্টোবর) দোয়ারাবাজার থানায় লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী সুমী রানী নাথ নামে এক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক।
লিখিত আবেদনে সুমী রানী উল্লেখ করেন, প্রায় দুই থেকে তিন বছর আগে আমির আলীর কাছ থেকে সাপ্তাহিক সুদের ভিত্তিতে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন তিনি। এ সময় স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকের চেকও রাখা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে থাকেন তিনি।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে স্বামীর সম্পত্তি বিক্রি এবং ব্যাংক থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আমির আলীর পাওনা পরিশোধ করেন বলে জানান সুমী রানী। এরপর তার কাছে থাকা চেকবই ফেরত চাইলে তাকে হুমকি ও কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়।
পরে সুমী রানীর পরিচালিত বঙ্গবন্ধু বাজারে হোমিওপ্যাথি ফার্মেসিতে গিয়ে গালিগালাজ ও অসদাচরণের ঘটনাও ঘটে বলে তিনি জানান। এরপর ঘর মালিক তাকে সেখান থেকে বের করে দিলে বাজারের অন্য স্থানে ব্যবসা শুরু করেন তিনি।
সুমী রানীর ভাষ্য, গত ২ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে অসুস্থতার কারণে নিজের ফার্মেসির পেছনের কক্ষে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তিনি। এ সময় আমির আলী পেছনের দরজা দিয়ে প্রবেশ করে তার মুখ চেপে ধরে টানাহেঁচড়া করে পড়নের কাপর জোরপূর্বক খুলে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তিনি পালিয়ে যান।
ঘটনার পর বিষয়টি বাজার ব্যাবসায়ীদের জানানো হয়। পরে ৫ অক্টোবর বাজারের ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে সালিশি বৈঠক বসে। সেখানে আমির আলী উপস্থিত না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত থানায় লিখিত আবেদন করেন সুমী রানী।
তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ বিচার দাবি করার পাশাপাশি নিজের, স্বামী ও সন্তানদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি আমির আলীর সাথে এমন কি তার ব্যবহারকৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে 01763623804
বাজার কমিটির সদস্য দেলোয়ার হোসাইন বলেন, শুক্রবার সুমি রানীর দোকানে এমন ঘটনার খবর পেয়ে আমিসহ বাজারে থাকা বেশ কয়েকজন সুমি রানীর দোকানে যাই। শুক্রবার রাতে এবিষয়ে আমরা বাজার ব্যবসায়ীরা আলোচনায় বসি এবং ওইদিন সন্ধায় সামাজিক ভাবে সিদ্ধান্ত হয় দুই পক্ষ যেনো সোমবার শালিসে উপস্থিত থাকেন। কিন্তু সোমবার সুমি রানী উপস্থিত থাকলেও আমির আলী উপস্থিত হয়নি। সে এখন থেকে আত্মগোপনে পলাতক রয়েছে।
সাবেক ইউপি সদস্য হবুল হোসেন বলেন,সুমী রানী নাথের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি সঠিক। আমরা শালিস বৈঠকের আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু আমির আলী আসেনি।
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply