মোঃ মুকিম উদ্দিন স্টাফ রিপোর্টার::
প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে সন্তানের প্রতি মায়েদের দায়িত্ব ও করণীয় বিষয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রীধরপাশা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মায়েদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো মা সমাবেশ। আজ ২০ নভেম্বর শনিবার সকাল ১১ ঘটিকায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য মোঃ জাহেদ আলীর সভাপতিত্বে ও বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শহীদুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদ আহমদ। বক্তব্য রাখেন,বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকা মার্জিনা আক্তার, রিপা বেগম, আবিদা সুলতানা চৌধুরী,
২ নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী মোঃ লিয়াকত হোসেন অমৃত, গন্যমান্য ব্যক্তি আখলাক আহমদ লিলু, মাওঃ শামছুল ইসলাম, মোঃ জুনেদ আহমদ, মায়েদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মোছাঃ বিলকিছ বেগম, মোছাঃ সুজিনা বেগম, মোছাঃ আয়শা বেগম, মোছাঃ মাহমুদা সুলতানা, মোছাঃ তাসলিমা বেগম প্রমূখ। সমাবেশে এলাকার প্রায় শতাদিক মায়েরা অংশ নেন।
সভায় বক্তারা বলেন, নেপোলিয়ন বলেছিলেন ‘আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি একটি শিক্ষিত জাতি দিব’। সুতরাং একথা অনস্বীকার্য যে, সন্তানের ভবিষ্যৎ গঠনে মায়ের ভূমিকাই প্রধান। মা একটি ছোট শব্দ হলেও মায়ের কাছে একজন সন্তান পৃথিবীর শ্রেষ্ট সম্পদ। তেমনি একজন সন্তানের কাছে মা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। একজন সুশিক্ষিত মা পারেন একটি শিক্ষিত জাতীর জন্ম দিতে। তাই একজন শিক্ষার্থীর প্রতি একজন মায়ের দায়িত্ব অনেক বেশী কারন মায়ের নিবিড় যত্নের উপর নির্ভর করে একজন শিক্ষার্থীর আগামীর ভবিষ্যৎ। সন্তানের নৈতিক চরিত্র গঠন ও আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় অভিভাবক হিসেবে মায়ের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। জন্মের পর অসহায় শিশুকে শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে মা-ই কথা বলতে, পথ চলতে শেখান। সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে মায়ের ভূমিকাই অপরিসীম। মায়ের হাত ধরে গুটিগুটি পায়ে যখন একটি শিশু প্রথমবারের মতো বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পা রাখে, তখন শুরু হয় তার নতুন জগতে পথচলা। আর এই নতুন পথচলাকে আরো মসৃণ করতে একজন মায়ের সচেতনতাই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।
মা ও শিক্ষকের সঠিক পর্যবেক্ষণ এবং সে অনুযায়ী সন্তানকে গড়ে তোলার পদ্ধতি অনুসরণ করলে একটি শিশু ভবিষ্যতে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে এতে কোন সন্দেহ নেই। সেক্ষেত্রে মা সমাবেশের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। প্রাথমিক শিক্ষা পদ্ধতিতে নিয়মিত মা-সমাবেশ আয়োজন সন্তানের সঠিক ও সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে অনন্য ভূমিকা পালন করে থাকে।
এজন্য প্রতিমাসে বিদ্যালয়গুলোতে মা-সমাবেশ আয়োজনের উপর জোর দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের সকল শিশুর মায়েদেরকে প্রতিমাসে একটি নির্দিষ্ট দিনে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয় এবং এদিন সকল শিশুশিক্ষার্থী তাদের মায়েদের সাথে বিদ্যালয়ে হাজির হয়। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিশুশিক্ষার প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার জন্যই মূলত এই মা সমাবেশের আয়োজন করা হয়। তাছাড়া একজন মায়ের কাছ থেকে তার সন্তানের সার্বিক বিষয়ে অবগত হয়ে শিক্ষার্থীকে একজন শিক্ষক পাঠদান করতে পারলে অথবা বিদ্যালয়ে তার সহপাঠী ও শিক্ষকদের সাথে একজন শিশুর আচার-ব্যবহার এবং তার শেখার ধরন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ে শিক্ষক ও মায়েদের ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে শিশুর মানসিক বিকাশ সাধনে পরিচর্যায় করণীয় নির্ধারণ খুব সহজতর হয়।
মা সমাবেশের মাধ্যমে শিশুর আচার-আচরণ সম্পর্কে অবহিত করা, শিশুর মধ্যে কোন অস্বাভাবিকতা থাকলে তা জানা, শিশুর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা সম্পর্কে শিক্ষক ও পরিবারের মধ্যে তথ্য বিনিময় করা, কোন শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে আসার বিষয়ে কেমন আগ্রহ তা জানা অথবা বিদ্যালয়ে না আসার প্রবণতা থাকলে তার কারণ উদ্ঘাটন করা হয়।
শিক্ষা জীবনে শিক্ষার্থী কেমন ফলাফল করছে এসকল বিষয় মাকে অবহিত করা হয়, যাতে আশানুরূপ ফলাফল অর্জনে মা তার সন্তানের প্রতি আরো যত্নবান হতে পারেন। মা সমাবেশের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদেরকে শিশু সম্পর্কে সচেতন করে তোলা, শিশুর ঘাটতিগুলো শনাক্ত করে নিরাময়মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা, শিশুর জন্য পরিবারে এবং বিদ্যালয়ে আস্থাশীল পরিবেশ বজায় রাখা, শিশুর পাঠের তদারকি করা এবং পাঠের ক্ষেত্রে শিশুকে আরো আগ্রহী করে তোলা হয়।
অনেক মায়েরা তাদের আর্থিক দৈন্যদশার কথা তুলে ধরেছেন, বিদ্যালয়ের পাঠদানে পদ্ধতি ও শিশুদের সাথে শিক্ষকদের সম্পর্ক কেমন হওয়া দরকার সে সম্পর্কে মতামত দিয়েছেন। মা সমাবেশের মাধ্যমে নিজের সন্তানকে ভবিষ্যতে কোথায় দেখতে চান এসব বিষয় নিয়ে মায়েদের সাথে সরাসরি কথা বলার সুযোগ তৈরি হয়।
মা সমাবেশের মাধ্যমে মায়েরা যেমন তাদের সন্তানকে নিয়ে তাদের চাওয়াগুলো তুলে ধরতে পারেন, তেমন শিক্ষকরা তাদেরকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আরো সচেতন ও যত্নবান হতে মায়েদেরকে সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে পারেন। মা সমাবেশের মাধ্যমে একজন মা আরও একাধিক মায়ের সাথে ভাব বিনিময়ের সুযোগ পেয়ে থাকেন, যার ফলে সন্তানের জন্য সঠিক ও উপযুক্ত শিক্ষা নির্ধারণ সহজ হয়। শিশুকে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এবং উন্নত জীবনের জন্য মা অপরিহার্য। এছাড়াও ছাত্র ছাত্রীদের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতাসহ করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতামূলক আলোচনা করা হয়।
Leave a Reply