মোঃ মুকিম উদ্দিন স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জে বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট পীর হাবিবুর রহমান স্মরণে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ১২ ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুরে শহরের পৌরবিপণিতে সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি লতিফুর রহমান রাজুর সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক হিমাদ্রী শেখর ভদ্র’র পরিচালনায় এ শোক সভার আয়োজন করা হয়। শোক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পীর হাবিবুর রহমান এর আপন ভাই সুনামগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ এমপি।
শোক সভায় বক্তব্য দেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জয়নাল আবেদীন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত পৌর মেয়র নূরুল ইসলাম বজলু, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা শাহ আবু নাসের, ক্রীড়া সংগঠক পারভেজ আহমদ চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা অমল কান্তি কর, সাংবাদিক সেলিম আহমদ তালুকদার, মাসুম হেলাল, এমরানুল হক চৌধুরী, আমিনুল ইসলাম, কর্ণবাবু দাস প্রমুখ।
এসময় বক্তারা বলেন, প্রখ্যাত সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমান একজন সাহসী কলম সৈনিক ছিলেন। তার লেখায় সমাজের অপশক্তি ক্ষুব্ধ হত। তিনি সমাজের অপশক্তির কাছে কখনও মাথানত করেননি। সব সময় স্বাধীনতার স্বপক্ষে তার অবস্থান ছিল সবার উর্ধে। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে কখনও আপোষ করেননি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, পীর হাবিবুর রহমান তিনি নিজের কর্মদক্ষতা ও মেধা দিয়ে সাংবাদিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন। দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিগন তাকে অনেক ভালো বাসতেন। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আপোষ করেননি কখনও। তিনি বলতেন, বঙ্গবন্ধু আমার নেতা, মানুষ আমার দল।
তিনি বিশেষ করে সুনামগঞ্জকে গভীরভাবে ভাল বাসতেন। তিনি সবসময় দেশের পক্ষে, স্বাধীনতার স্বপক্ষে লিখে গেছেন। বিশেষ করে সুনামগঞ্জকে পীর হাবিবুর রহমানের কলমে দেশ বাসীর কাছে জোৎস্নার জলধারা হিসেবে পরিচিত করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের সবার সাথে আমার ভাইয়ের চলাফেরা ও উঠাবসা ছিল। তিনির আচরণে কেউ কোন কষ্ট পেয়ে থাকলে আমার ভাইকে ক্ষমা করে দিবেন।
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল হুদা মুকুট বলেন, পীর হাবিব ছিলেন সুনামগঞ্জবাসীর গর্ব। জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক নেতাদের সাথে তাঁর গভীর সম্পর্ক ছিল। মানুষের বিপদে ও মানুষের উপকারে তিনি ছিলেন সবার উর্ধে। সব সময় হাবিব দুর্দিনে আমাদের পাশে থাকত। আমরা হাবিবের পরিবারের পাশে আছি এবং থাকব ইনশাআল্লাহ।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত বলেন, পীর হাবিব তার মেধা শক্তি ও সাহসিকতা দিয়ে জীবনের শেষ মুহূর্তে মানুষের জন্য লিখেছেন, মানুষের জন্য কাজ করেছেন। তিনি ছিলেন সুনামগঞ্জবাসীর ভালোবাসার মানুষ। তাকে স্মরনীয় করে রাখতে তার নামে একটি স্থাপনার নামকরন করার চেষ্টা করব।
শেষে পীর হাবিবুর রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
Leave a Reply