একরাম হাসানঃ
তরুন সমাজকে সমাজে কাজে লাগাতে নতুন সিস্টেমের একটি শিক্ষা ব্যবস্থা করলেন বাংলাদেশ অানসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সিলেট রেঞ্জের রেঞ্জ কমান্ডার রফিকুল ইসলাম। তিনি চান সমাজের প্রতিটি তরুন বেকারত্ব থেকে দূরে থাকতে। তাই তিনি ঔ নতুন শিক্ষা দিয়ে তরুনকে সমাজের মাজে দক্ষশীল করতে চান। তিনি তিনির ফেইসবুক নিজের আইডিতে তিনির কর্মরর্ত বাহিনির সকল সদ্যসদের প্রতি উদার আহবান জানান। নিম্ন হুবহুব তিনির লিখিত বক্তব্য তুলে ধরা হলো
পাঠকের জন্য
সুপ্রিয় ভিডিপি সদস্য বৃন্দ! ঈদ মোবারক!!
তোমাদের একটা সুখবর জানাতে চাই। সিলেট বিভাগে চারটি জেলার তরুণ ও উদ্যমী এবং ভিন্নতর কর্মসংস্থানে আগ্রহী ভিডিপি সদস্যদের জন্য একটি নতুন প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করতে যাচ্ছি। কোর্সটি হবে এ বাহিনীতে প্রথম এবং সারা দেশে একমাত্র সিলেটেই প্রথম পরিচালিত হবে।
নতুন প্রশিক্ষণ কোর্সটির নাম Catering Service and Hospitality Management Course. এ বিষয়টির উপর দেশ বিদেশের বহু বিশ্ব বিদ্যালয়ে মাষ্টার্স ডিগ্রী দেওয়া হয় এবং লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে ছাত্র ছাত্রীরা এ বিষয়ে পড়াশুনা করে। পড়া শেষে লক্ষ টাকা বেতনে চাকুরী করে। তাদের চাকুরীর ক্ষেত্রগুলো হলো দেশ বিদেশের ফাইভ স্টার হোটেল, ট্যুরিজম, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানী, এ্যরোপ্লেন ক্যাটারিং আরও অনেক ক্ষেত্রে। অনেকে আবার ক্যাটারিং সার্ভিস প্রোভাইডার, ক্যাফে, রেষ্টুরেন্ট, রিসোর্ট ইত্যাদি ক্ষেত্রে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে কোটি টাকার ব্যবসায়ী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং অগণিত তরুণদের কর্ম সংস্থানের সৃষ্টি করে।
তরুণদের জন্য ক্ষেত্রটি খুবই সম্ভাবনাময় বিবেচিত হওয়ায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ক্ষুদ্র পরিসরে এ কোর্সটি চালু করতে যাচ্ছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত গত রেঞ্জ কমান্ডারগণের কনফারেন্সে এ কোর্সটি চালু করার বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছিলাম এবং সম্মানিত মহাপরিচালক মহোদয় সম্ভাবনাময় এ কোর্সটি চালু করার বিষয়ে সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন এবং তা সিলেটেই।
আমরা জানি, সিলেট বিভাগের অসংখ্য মানুষ ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গমন করে খ্যতি ও প্রতিষ্ঠিা লাভ করে সে সব দেশে বসবাস করছেন। তাঁদের বহুজনের সেসব দেশে হোটেল, রেষ্টুরেন্ট এবং পর্যটন সম্পর্কিত ব্যবসা রয়েছে। দেশে থেকে পরিবারের সদস্য, আত্মীয় প্রতিবেশিদের সেখানে নিয়ে যান বা কেউ স্বেচ্ছায় ভাগ্য অন্বেষণে সেখানে হাজির হলে তাঁরা কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করে দেন। অনেককেই তারা নিজের বা ঐদেশের রেষ্টুরেন্টে চাকুরী পেতে সহায়তা করে থাকেন। কিন্তু এরকম বিদেশগামীদের মধ্যে প্রায় সকলেই অদক্ষ এবং অনভিজ্ঞ অবস্থায় গমন করে থাকে, যার ফলে প্রথমে কিছু odd job করে তারপর প্রশিক্ষণ নিয়ে ক্যাটারিং সার্ভিস স্টাফ হিসেবে কাজ পেয়ে থাকে। সারা বাংলার মধ্যে সিলেট বিভাগ এক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে।
আমাদের এ কার্সের লক্ষ্য হবে সিলেট বিভাগের চারটি জেলা থেকে যে সকল তরুণ ভাগ্য পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে বিদেশে আত্নীয় স্বজনদের কাছে যেতে চায়। তাদেরকে ক্যাটারিং সার্ভিস ( খাদ্য সরবরাহ ও সেবা) এবং হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট( অতিথি ব্যবস্থাপনা) বিষয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের দক্ষ করে তোলা। বিদেশে কর্মসংস্থানের বিষয়টি যেহেতু মাথায় রাখা হয়েছে তাই এ কোর্সের সাথে থাকবে ইংরেজি ভাষা শেখানো যাতে ভিন্ন ভাষাভাষি মানুষের সাথে৷ কথা বলতে এবং তাদের কথা বুঝতে পারে। আর এ জন্যই এ কোর্সের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা হতে পারে এসএসসি বা তার চেয়ে বেশী পড়াশুনা। যেহেতু ইংরেজী ভাষা শেখানো হবে সেহেতু রেজাল্টও দেখা হতে পারে। বয়স সর্বোচ্চ ৩৫ বছর রাখার প্রস্তাব রাখা হয়েছে এই ভেবে যে সরকারী চাকুরী বয়স পার হয়ে যাবার পর যাদের বেকারত্বের ঝুঁকিতে পড়বে তাদের হাত ধরে এগিয়ে দেওয়ার জন্য।
প্রশিক্ষণটি হবে সম্পূর্ণ বিনা খরচে (সরকারী খরচে), মান সম্মত পরিবেশ সম্বলিত ক্লাশ রুম এবং ল্যাবে। থাকবে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। প্রশিক্ষক হিসেবে থাকবেন এ পেশার সাথে সংশ্লিষ্ট দক্ষ প্রশিক্ষক। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে অবশ্যই ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণের সনদ থাকতে হবে। ভিডিপি প্রশিক্ষণ নেই কিন্তু এ প্রশিক্ষন নিতে আগ্রহী, তাদেরও অন্যান্য যোগ্যতা থাকলে ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে। খুব শীঘ্রি একটা অনলাইন রেজিষ্ট্রেশন ফরম উন্মুক্ত করা হবে। যারা আগ্রহী তারাই রেজিষ্ট্রশন করবে। আগ্রহীর সংখ্যা বেশী হলে বিভিন্ন ধাপের জন্য তাদের অপেক্ষমান রাখা হবে। প্রাথমিক ভাবে প্রতি ধাপে ২০জন করে প্রশিক্ষণার্থী নিয়ে কোর্সটি যাত্রা শুরু করবে। পরে চাহিদার ভিত্তিতে কোর্সের, প্রশিক্ষণার্থীর এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। আগ্রহী প্রশিক্ষণার্থীর সাড়া পেলে এবং কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারলে সিলেট বিভাগের চারটি জেলাতেই চারটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দিব।
আমরা বিশ্বাস, এ কোর্সটি একদল তরুণকে উজ্জীবিত করবে, আলোর পথ দেখাবে। স্থানীয়ভাবে ক্যাটারিং সার্ভিস, ক্যাফে, রেষ্টুরেন্টের এবং কমিউনিটি ট্যুরিজমের উদ্যোক্তা পাবারও আাশা রাখছি। দেশে যে ভাবে পর্যটন শিল্পের বিস্তার লাভ করছে, এখানেও জব মার্কেটে অনেকেই প্রবেশ করবে। বেকারত্বকে ‘না’ বলে তরুণদের মুখে হাসি ফোটাতে আমাদের এ উদ্যোগ এবং তোমাদের জন্যই আমি এ উদ্যোক্তা!! বাকীটা আল্লাহ ভরসা শুভকামনা সবার জন্য।
——
মোঃ রফিকুল ইসলাম
রেঞ্জ কমান্ডার
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী
সিলেট রেঞ্জ।
Leave a Reply