সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি::
মানব পাচারকারী দালালের মাধ্যমে লিবিয়া থেকে অবৈধপথে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে খাবার ও পানি সংকটে ১১ অভিবাসন প্রত্যাশী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় সুনামগঞ্জের ৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে গত ১৬ আগষ্ট রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে কেউ কেউ বলছেন ওই যুবকদের মৃত্যু হয়েছে। ৮ জনের মধ্যে শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৫ জন,জগন্নাথপুর উপজেলার ২ জন ও দিরাই উপজেলার ১ জন রয়েছেন। সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন,ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের কয়েকজন মারা গিয়েছেন বলে জানা গেছে, সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
সুনামগঞ্জের বেশ কয়েকজন যুবক ইউরোপের দেশ গ্রিস যাওয়ার জন্য গেল জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে দালালের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ হয়ে লিবিয়া পৌঁছান। এরপর গত ৩ আগস্ট রাতে সবাই নৌকায় করে গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। যাত্রার দিন ও আগে অনেকেই দেশে স্বজনদের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। এরপর থেকে পরিবারের সাথে অনেকের আর কোন ধরনের যোগাযোগ নেই। গত ৩ আগস্ট গ্রিসের উদ্দেশে লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করা নৌকাটিতে থাকা ৪২ জনের মধ্যে ৩৮ জনই বাংলাদেশি ছিল। পথে বোট নষ্ট ও খাবার শেষ হয়ে যাওয়ায় ভূমধ্যসাগরে ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়।
স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি,৮ যুবক নিখোঁজ রয়েছেন। যুবকরা নিহত হওয়া বা মারা যাওয়ার কোন তথ্য পরিবার বা স্বজনদের কাছে নেই। নিখোঁজ থাকা যুবকরা হলেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্বপাগলা ইউপির শত্রুমর্দনের গ্রামের হৃদয় পাল, চিকারকান্দি গ্রামের এনামুল খাঁন, রিপন মিয়া, মামুন খাঁন, রনসী গ্রামের মো. তালহা, জগন্নাথপুর উপজেলার বাগময়না গ্রামের জুয়েল আহমদ টিপু,গন্ধর্বপুর গ্রামের হাবিব উল্লাহ, দিরাই পৌর এলাকার ঘাগটিয়া গ্রামের সানোয়ার হোসেন। নিখোঁজের ঘটনা জানিজানি হওয়ার পর থেকে কারো বাড়িতে চলছে আহাজারি, কারো পরিবার ও স্বজনরা রয়েছেন চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিল্লোল চাকমা জানিয়েছেন, প্রথমে জানা গিয়েছিল সুনামগঞ্জের কয়েকজনেক ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। যারা উদ্ধার হয়েছে,তাদের মাধ্যমে পরবর্তীতে জানা যায়,বেশ কয়েকজন মারা গিয়েছেন। প্রকৃত তথ্য উদঘাটন ও সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
স্বপ্নের দেশ ইউরোপে পাড়ি দিতে অবৈধপন্থায় সাগরপথে না গিয়ে বৈধ পথে যাওয়া উচিৎ বলে মনে করেন সচেতনমহল।
Leave a Reply