মোঃ মুকিম উদ্দিন স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জে পৃথক ধর্ষন মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে একলক্ষ টাকা করে জরিমানা করেছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ জাকির হোসেন।জরিমানা অনাদায়ে বুধবার দুপুর ১২.৩০ ঘটিকায় এ আদেশ দেন এবং একই মামলায় অপহরণের দায়ে আসামীদের ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড সহ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন বিজ্ঞ বিচারক। এছাড়া জরিমানার ১ লক্ষ টাকা ক্ষতি হিসাবে ভিকটিমকে প্রদানের নির্দেশ দেন বিজ্ঞ বিচারক।
দন্ড প্রাপ্তরা হলেন, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লালপুর গ্রামের আব্দুল হাসিমের ছেলে রুবেল মিয়া, মফিকুল ইসলামের ছেলে মনির মিয়া, আব্দুস সালামের ছেলে শামীম মিয়া এছাড়া ছাতক উপজেলার দিঘলী চানপুর গ্রামের তাজ উদ্দিনের ছেলে রাজন মিয়া।
আাদালত সুত্রে জানাযায়, ২০ এপ্রিল ২০১৭ ইং সালে ভিকটিম কিশোরী শিল্পী সুনামগঞ্জের মল্লিকপুরে গানের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার সময় সুনামগঞ্জ শহরের কুতুবপুরের পয়েন্টে পৌঁছামাত্র ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। এসময় গানের উস্তাদসহ ভিকটিম আম্ভরের চায়ের দোকানে আশ্রয় নেয়। তৎক্ষনাৎ আসামী রুবেল, মনির ও শামীম একটি মাইক্রোবাস নিয়ে চায়ের স্টলে গিয়ে ভিকটিমের গানের উস্তাদকে মারপিট করে জখমকরে ভিকটিমকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে পালাক্রমে ধর্ষন করতে থাকে। মাইক্রোবাসের একটি চাকা পামসাট হলে আসামীরা ভিকটিমকে সাথে নিয়ে পায়ে হেটে লালপুর বাজারের দিকে রওয়ানা হয়। পথিমধ্যে একটি ব্রীজের নীচে ভিকটিমকে পুনরায় পালাক্রমে ধর্ন করেন করেন। পরে ভিকটিমের মিনতিতে আসামীরা ভিকটিমকে লালপুর বাজারের মোহন মিয়া মার্কেটের সামনে রাস্তায় ছেড়ে দেন। পরে ভিকটিমের বাবা মা তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করান। পরদিন ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে রুবেল মিয়া, মনির মিয়া ও শামীম মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আসামীদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানী শেষে আদালত স্বাক্ষী প্রমানের ভিত্তিতে রুবেল মিয়া, মনির মিয়া ও শামীম মিয়াকে ধর্ষনের অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সহ ১ লক্ষ টাকা জরিমানা এবং অপহরণের দায়ে ১৪ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার ১ লক্ষ টাকা ভিকটিমকে ক্ষতিপুরন হিসেবে দেয়া হবে। একই সাথে জরিমানার ২০ হাজার টাকা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন বিচারক।
অপরদিকে ছাতক উপজেলার দিঘলী চানপুর গ্রামের তাজ উদ্দিনের ছেলে রাজন মিয়া একই গ্রামের মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্রীকে মাদ্রাসায় আসা যাওয়ার সময় রাস্তায় উত্যক্ত করত ও কুপ্রস্তাব দিত। যার কারনে ঐ মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্রী মাদ্রাসায় পড়া লেখা বন্ধ করে দেয়। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ইং সালে রাত ১১ টায় এই ছাত্রী প্রাকৃতিক কাজ সারার জন্য ঘর থেকে বের হলে পূর্বে থেকে ওৎ পেতে থাকা আসামী রাজন মিয়া ভিকটিমের মুখ বেঁধে অপহরণ করে পার্শ্ববর্তী তকিপুর মাজুলের খালি বাড়িতে নিয়ে জোড়পূর্বক ধর্ষন করে। পরে ভিকটিম বাড়িতে এসে তার পিতা মাতাকে বিষয়টি জানালে পিতা মাতা ভিকটিমকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করান। চিকিৎসা শেষে ভিকটিম বাড়িতে এসে রাজন মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আসামী রাজন মিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানী শেষে আদালত স্বাক্ষী প্রমানের ভিত্তিতে আসামী রাজন মিয়াকে ধর্ষনের অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সহ ১ লক্ষ টাকা জরিমানা এবং অপহরণের দায়ে ১৪ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার ১ লক্ষ টাকা ভিকটিমকে ক্ষতিপুরন হিসেবে দেয়া হবে। একই সাথে জরিমানার ২০ হাজার টাকা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন বিচারক।
এরায় ঘোষনার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি নান্টু রায় ও আসামী পক্ষের আইনজীবী সহ গণমাধ্যম কর্মী।
Leave a Reply