মোঃ মুকিম উদ্দিন স্টাফ রিপোর্টার::
সারা দেশের ন্যায় সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাঙ্গালী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এর আগে মন্ডপগুলোতে চলে সিঁদুর খেলা আর আনন্দ উৎসব। হিন্দু সধবা নারীরা প্রতিমায় সিঁদুর পরিয়ে দেন। চলে মিষ্টি মুখ, ছবি তোলা আর ঢাকের তালে নাচ গান।
রবিবার (১৩ অক্টোবর) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে শ্রী শ্রী জগন্নাথ জিউড় মন্দির থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা বের করে প্রতিমা আলখাপনার পাড় স্লুইচগেইটে আসে।
শঙ্খ আর উলুধ্বনি, খোল-করতাল-ঢাকঢোলের সনাতনী বাজনার সঙ্গে দেবী-বন্দনার গানের মধ্য দিয়ে হাজারো মানুষ এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন। জগন্নাথ জিউড় থেকে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে আলখাপনার পাড় গিয়ে শোভাযাত্রা শেষ হয়।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, দশভুজা দেবী মহালয়ার দিন ‘কন্যারূপে’ পৃথিবীতে আসেন। আর দশমার দিন বিসর্জনের মাধ্যমে এক বছরের জন্য বিদায় জানানো হয় তাকে। দেবীর আগমন ও প্রস্থানের মাঝে আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী তিথি পর্যন্ত মাঝের পাঁচদিন নানা আয়োজনে চলে দুর্গোৎসব।
জগন্নাথপুর উপজেলার আলখাপনার পাড় স্লুইস গেইটে এদিন বিকেলে সাড়ে ৩টায় প্রতিমা বিসর্জন দেয় উপজেলা সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটি। এর মাধ্যমে দেবীকে বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন ঘাটে রাত ৮টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ৪১টি মণ্ডপের প্রতিমা একে একে বিসর্জন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পূজা উদযাপন পরিষদ।
এ বিষয়ে পূজা উদযাপন কমিটির একাধিক সদস্য বলেন, আজ বিজয়ী হয়েছেন দুর্গা মা। এজন্য আজ আমাদের আনন্দের দিন। আমরা উৎসব করি। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে জানাচ্ছি বিজয়ার শুভেচ্ছা।
এদিকে প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা বা দুর্ঘটনা না ঘটে, সেজন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জগন্নাথপুরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জন দেখতে জগন্নাথপুর আলখাপনার পাড় স্লুইসগেটে হাজারো মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
Leave a Reply