আনোয়ার হোসেন রনি, ছাতক প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জের ছাতকের দলিল লিখক থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে প্রভাবশালী হয়ে ওঠা মাহমুদুল হাসান ওরফে সালিকের বিরুদ্ধে জাল দলিল তৈরি, জমি দখল, চাঁদাবাজি, হামলা-মামলা ও প্রতারণাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।
তার কথিত ক্যাডার বাহিনীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় এবং বিরোধপূর্ণ জমি দখলের অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাহমুদুল হাসান আওয়ামী লীগ পরিবারের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কের পর রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন। পরবর্তীতে দলীয় পরিচয় ও স্থানীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ভাতগাঁও ইউনিয়নসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বিএনপি, জামায়াত, হেফাজত ও স্থানীয় আলেমদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হতো। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প, টেন্ডার, টিআর-কাবিখা, টিসিবি কার্যক্রম এবং গ্রাম্য সালিশকে কেন্দ্র করেও অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার একটি মামলাও আদালতে দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নছরতপুর ওরফে বরাটুকা গ্রামের বাসিন্দা ডা. মোহাম্মদ সুহেল ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন। ওই মামলায় তিনি কিছুদিন কারাগারে ছিলেন এবং পরে জামিনে মুক্ত হন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এদিকে আনুজানি গ্রামের জহুর আলীর দায়ের করা আরেকটি মামলায় তিনটি কথিত ভুয়া দলিল তৈরির অভিযোগ তদন্ত করে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে বলে জানা গেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মো. মিরাজ আহমেদ বলেন, তদন্তে দণ্ডবিধির ৪৬৭, ৪৮৬, ৪৭১, ৪০৬, ৪২০, ৫০৬ ও ১০৯ ধারার অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বে থাকাকালে প্রায় ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করায় সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর নুরের ওপর হামলার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় মাহমুদুল হাসান ও তার সহযোগীদের আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
এছাড়া গত ৭ আগস্ট গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্টে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা দ্রুত বিচার আইনের মামলায়ও মাহমুদুল হাসানকে আসামি করা হয়েছে বলে মামলাসংশ্লিষ্টরা জানান।
অন্যদিকে কালারুকা ইউনিয়নের রাজাপুর এলাকায় চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদুল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পরে পাল্টা অভিযোগে আদালতে মামলা করা হয়। এসব ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, মাহমুদুল হাসান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে কথিত ক্যাডার বাহিনীর দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।
মাহমুদুল হাসানের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলার তদন্তকারী এসআই জালিল বলেন, আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply