আনোয়ার হোসেন রনি, ছাতক প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় পাগনা বড়বিল জলমহালসহ বিভিন্ন জলাশয়কে কেন্দ্র করে মৎস্য আহরণ ও দখল নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মাছ উৎপাদনের জন্য নেট দিয়ে ঘেরা জমির দুই পাশের নেট-ঘাট জোরপূর্বক তুলে নেওয়া এবং প্রায় ১০ লাখ টাকার উৎপাদিত মাছ, সংরক্ষিত মাছ ও মাছের পোনা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে সোনারতরী মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মিরাস আলীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় সোনারতরী মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মিরাস আলী, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা লুৎফুর রহমান এবং ছাতক উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আলী আসকরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের ছাতরপাই গ্রামের বাসিন্দা আনছার মিয়া।
গত ২৯ অক্টোবর তিনি সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে এ অভিযোগ দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগে আনছার মিয়া উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট মিরাস আলী, লুৎফুর রহমান ও আলী আসকরের নেতৃত্বে একদল লোক তাঁর নেট দিয়ে বেষ্টিত মৎস্য উৎপাদনকেন্দ্রের দুই পাশের নেট-ঘাট জোরপূর্বক খুলে নিয়ে যায়।
এতে জলাশয়ে থাকা প্রায় ১০ লাখ টাকার উৎপাদিত মাছ, সংরক্ষিত মাছ এবং মাছের পোনা বিভিন্ন জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে তিনি, তাঁর সহযোগী ও অংশীদাররা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সোনারতরী মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যদের প্রকৃত মৎস্যজীবী নন বলে দাবি করেছেন আনছার মিয়া। তাঁর অভিযোগ, বিগত প্রায় ১৭ বছর ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে পাগনা বড়বিলসহ বিভিন্ন জলমহাল অন্যায়ভাবে ভোগদখল করে আসছে। এ ক্ষেত্রে জলমহাল ইজারার শর্ত ও চুক্তি লঙ্ঘনেরও অভিযোগ তোলা হয়েছে।
আনছার মিয়ার দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। জলমহাল ব্যবস্থাপনার নামে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছে। ফলে সাধারণ মৎস্যজীবীরা যেমন ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তেমনি মাছ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত অংশীদাররাও আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
অভিযোগকারী দাবি করেছেন,সংশ্লিষ্ট জলমহালগুলোতে সরেজমিনে তদন্ত করা হলে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়ভাবে জলমহাল ইজারা, মৎস্য উৎপাদন ও প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যে এ অভিযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনায় ইজারার শর্ত কতটা মানা হচ্ছে এবং প্রকৃত মৎস্যজীবীরা কতটা উপকৃত হচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
জলমহাল কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি সরকারি সম্পদ। তাই রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা পেশিশক্তির দাপটে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অধিকার হরণ করা হলে তা শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। অভিযোগের প্রতিটি বিষয় নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী আনছার মিয়া।
এব্যাপারে থানার ওসি কামাল হোসেন এসব অভিযোগের প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন তদন্তপুবক আইনানুগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত মিরাস আলী, লুৎফুর রহমান ও আলী আসকরের বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক দুটি অভিযোগ প্রাপ্তির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইউএনও মহি উদ্দিন বলেন তদন্তপুবক আইনানুগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Leave a Reply