আমির হোসাইন তাহিরপুর প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ১ নম্বর শ্রীপুর উত্তর ইউ
নিয়নে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২০২৭’ কর্মসূচির ইউনিয়ন পর্যায়ের বাছাই পর্বে অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতার অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত লাকমা ফুটবল মাঠ খেলার অনুপযোগী থাকায় শেষ পর্যন্ত ট্যাকেরঘাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে বাছাই পর্বের খেলা সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনায় বাস্তবায়ন কমিটির দায়িত্ব পালন ও সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের বাছাই পর্ব আয়োজনের জন্য লাকমা ফুটবল মাঠ নির্ধারণ করা হয়। উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার অনুমোদনক্রমে মাঠটি ভেন্যু হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মাঠে উপস্থিত হলেও সেখানে বাস্তবায়ন কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের পাওয়া যায়নি। এমনকি খেলা পরিচালনার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও মাঠ প্রস্তুতির ব্যবস্থাও ছিল না।
পরে কলাগাঁও-চারাগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের উপস্থিতিতে বাস্তবায়ন কমিটির তালিকা দেখে সদস্যসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এ সময় জানা যায়, খেলা পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন ট্যাকেরঘাট চুনাপাথর খনিজ প্রকল্প এলাকার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ খায়রুল আলম। পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত মাঠটি অনুপযোগী হওয়ায় ট্যাকেরঘাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে বাছাই পর্বের খেলা সম্পন্ন করা হয়।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আলাল মিয়া বলেন, ‘সকালে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা লাকমা মাঠে খেলতে আসে। কিন্তু মাঠের বেহাল অবস্থার কারণে সেখানে খেলা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি জানতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হায়দারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কমিটির বিষয়ে অবগত নন বলে জানান।’
২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান তারা মিয়া বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে আমরা আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু নির্ধারিত মাঠে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা হতাশ হয়েছেন। পরে বিকল্প মাঠে খেলা অনুষ্ঠিত হলেও আয়োজনের প্রস্তুতি সন্তোষজনক ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আগেও মাঠ প্রস্তুত ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা হয়। অথচ এত গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির ক্ষেত্রে মাঠের উপযুক্ততা আগে যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ অব্যবস্থাপনার কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’
১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হামিদুর ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জন্য এমন একটি ক্রীড়া আয়োজন নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু নির্ধারিত মাঠে খেলতে না পেরে অন্য মাঠে যেতে হওয়া দুঃখজনক। এতে বাস্তবায়ন কমিটির দায়িত্ব ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সরকারি পর্যায়ের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া কর্মসূচি বাস্তবায়নের আগে মাঠের উপযুক্ততা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতি ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু যথাযথ পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাবে আয়োজনটি নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনায় বাস্তবায়ন কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং নির্ধারিত মাঠ পরিবর্তনের কারণ খতিয়ে দেখতে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও উপযুক্ত পরিবেশে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়ন কমিটি, অধ্যক্ষ খায়রুল আলম ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে।
Leave a Reply