স্টাফ রিপোর্টার::
জগনাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের কান্দারগাঁও – নোয়াগাঁও গ্রামে কবরস্থানের ভূমি রেকর্ড সহ গ্রাম্য নানা বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন মুহুর্তে অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকা করছেন এলাকাবাসী।
গত রবিবার কান্দারগাঁও নোয়াগাও গ্রামে সরেজমিনে জানা যায়, দুই গ্রামবাসীর শত বছরের পুরানো একটি কবরস্থান রয়েছে। কবরস্থানটি কান্দারগাও গ্রামের জয়নাল আবেদীন তার বাবা আজিজুর রহমানের নামে ৬০ শতক ভূমি সেটেলমেন্টে রেকর্ড করান। এ বিষয়টি এলাকার লোকজন জানতে পেরে ভূমির আর এস ফর্সায় জয়নাল আবেদীনের পিতার নাম বাতিল করে গ্রামের পঞ্চায়েতের নামে উক্ত কবরস্থানের ভূমিটি রেকর্ড সংশোধনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কান্দারগাও -নোয়াগাঁও গ্রামের ১০১ জন স্বাক্ষরিত একটি আবেদন সহকারী কমিশনার ভূমি জগন্নাথপুর বরাবরে দাখিল করেছেন। এরপর থেকেই দুই গ্রামবাসী ও জয়নাল আবেদীনের মধ্যে একের পর এক বিরোধ চলে আসে।
এদিকে জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে এখলাছুর রহমান গংদের বিরুদ্ধে জগন্নাথপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করেন গত ৭ জনুয়ারি সকাল অনুমান ৭ ঘটিকায় বিবাদীগণ তার রোপনকৃত ধানী জমিতে ভাড়াটিয়া লোকজন দিয়ে ধানের চারা তুলিয়া নষ্ট করে ফেলে। অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন ৮ জানুয়ারি সকাল ১১টায় তার বসতবাড়িতে গিয়ে বিবাদীরা মহিলাদেরকে অকথ্য ও অশ্লীল ভাষায় গালাগালি সহ আক্রমণ করে বাংলা ঘরের বেড়াসহ ঘরের ছাল ভাঙচুর করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে গ্রামের মুরুব্বিয়ান জানান, জয়নাল আবেদীনের দায়ের করা অভিযোগটি মিথ্যা। রোপনকৃত ভূমিটি এখলাছুর রহমান তালুকদার গংদের। জয়নাল আবেদিন সহ তার লোকজন ভূমিটি দখল করার জন্য তারা নিজেরাই রোপনকৃত ধানী চারা মই দিয়ে নষ্ট করে দেয়।
এখলাছুর রহমান তালুকদারের ভাই সাজ্জাদুর রহমান সকাল থেকেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থীর পক্ষে এজেন্ট হিসেবে কেন্দ্রে দায়িত্বে ছিলেন। তারপরেও ৭ জানুয়ারীর ঘটনায় সাজ্জাদুর রহমানকে অভিযুক্ত করায় আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
কান্দারগাঁও গ্রামের হাজী আব্দুল নূর, হাজি আব্দুস সালাম, ছৈমুদ্দিন, ইসলাম উদ্দিন, নোয়াগাও গ্রামের বিশিষ্ট মুরব্বী আব্দুল কুদ্দুস, হাজি আব্দুল হাশিম, সদরুল ইসলাম, শেরাটন সহ উপস্থিত লোকজন জানান, আমরা কান্দারগাও, নোয়াগাঁও গ্রামবাসী মিলে ২০২৩ সালের প্রথমদিকে একটি প্রাইমারি স্কুল স্থাপনের জন্য সংসদ সদস্য তৎকালীন পরিকল্পনা মন্ত্রী আলহাজ্ব এম এ মান্নান বরাবরে আবেদন করি। আবেদনের প্রেক্ষিতে মন্ত্রী মহোদয় বিদ্যালয় মন্জুরীসহ সরকারি একটি মুজিব কেল্লা স্থাপনের জন্য আমাদেরকে আশ্বস্ত করেন। মন্ত্রী মহোদয়ের এমন ঘোষণার পেক্ষিতে আমরা দুই গ্রামের লোকজন জরুরি বৈঠকের আয়োজন করি। উক্ত গ্রামের লোকজন মিলে বিদ্যালয়ের জন্য প্রায় ৬ কেদার জমি দান করি। উক্ত বৈঠকে জয়নাল আবেদীন একমত পোষণ করেন। এর দুদিন পরে জয়নাল আবেদীন বিদ্যালয়ে দানকৃত ভূমির উপর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় পঞ্চায়েতের পক্ষে রায় হয়।
এবিষয়ে দৈনিক দেশ বাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জয়নাল আবেদীন জানান আমি বাড়িতে না থাকায় আমার রেকর্ডিংয়ের জমিনে রোপণকৃত ধানের চারা তুলিয়া নষ্ট করে ফেলেছে আমি প্রথমে থানায় একটি লিখত অভিযোগ দিয়েছিলাম বর্তমানে সুনামগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করেছি।
এলাকার অধিকাংশ লোকজন নিরীহ প্রকৃতির থাকায় জয়নাল আবেদীনের এসব কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কেহ মুখ খুলতে সাহস পায় না। জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
Leave a Reply