আনোয়ার হোসেন রনি, ছাতক প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মাদকবিরোধী এবং আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক এক সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাজে মাদকের বিস্তার রোধ, অপরাধপ্রবণতা হ্রাস এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
শনিবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহি উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ শফিউর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান, ছাতক প্রেসক্লাবে সভাপতি আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন তালুকদার,জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুর রহমান, আতাউর রহমান এমরান, বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সভাপতি ডা. আফসার উদ্দিন,মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অফিসের সাবইন্সপেক্টর আতাউর রহমান,সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাছিমা আক্তার খান ছানা,নোয়ারাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পীর আব্দুল খালিক রাজা, দোয়ারাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আলম,কালারুকা ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক সাজ্জাদুর রহমান জাউয়াবাজার ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক আলাউদ্দিন, সদর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক জাহিদুল ইসলাম আহবাব,দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক শামীম আলম প্রমূখ
বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের জন্যও মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে। মাদক নির্মূলে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন বলেন, “মাদকমুক্ত সমাজ গঠন করতে হলে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, বরং সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তরুণদের খেলাধুলা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে হবে।”
ইউএনও মো. মহি উদ্দিন বলেন, প্রশাসনের একার পক্ষে মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, ধর্মীয় নেতা এবং সচেতন নাগরিকদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি মাদক ও অপরাধ সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য প্রশাসনকে জানাতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
ওসি মিজানুর রহমান বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে। অপরাধ প্রতিরোধে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মশালার শেষে অংশগ্রহণকারীরা মাদকমুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
Leave a Reply